‘অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চাই’ : আবার মনোনয়ন চান বি এম মোজাম্মেল হক

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : জয়ের হ্যাট্রিক করে শরীয়তপুর-১ আসনে আবারো দলকে জয় উপহার দিতে চান বি এম মোজাম্মেল হক। এবারের নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন বলে আশাবাদী এ সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।

আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সদর উপজেলা ও জাজিরার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চান মোজাম্মেল হক। এলাকার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা, শতভাগ সততা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করায় ভোটাররা আবারো তাকে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি মনে করেন তিনি।

বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, গত ১০ বছরে কোনো দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। সাংগঠনিকভাবেও দলের অবস্থান সুদৃঢ়। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে বহির্বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতির সঙ্গে বসবাস শুরু। সারা জীবন এই আদর্শ ধারণ করব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন সারা বিশ্বের অনুকরণীয় নেতা। ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশকে প্রথাগত রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বের করে উন্নয়নের সোপানে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ আগস্ট খুনিরা বাংলাদেশের স্থপতিকে হত্যা করে অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চেয়েছিল। হোঁচট খেলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে শরীয়তপুর-১ সংসদীয় আসন গঠিত। পিছিয়ে পড়া এই সংসদীয় আসনে এখন উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পুল-কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন ও মসজিদ-মন্দিরের অনুদান পৌঁছে গেছে তার হাত ধরে।

বিগত ১০ বছরের উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উন্নয়ন কাজ হয়েছে ৩৯৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকার। এর মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকার। চলমান রয়েছে ৫৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজ হয়েছে ৬০ কোটি ৪২ লাখ ১৩ হাজার টাকার। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে উন্নয়ন কাজ হয়েছে ৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকার। সড়ক ও সেতু প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কাজ হয়েছে ৪০১ কোটির টাকার। এর মধ্যে পদ্মা সেতু এক্সপ্রেস সড়কের ৯৩৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজ হয়েছে ৪২০ কোটি টাকার। ৪৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৭০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে।

পদ্মা নদীর সম্পর্কে তিনি বলেন, ১ হাজার ১৮০ লাখ টাকার বৃহত্তর প্রকল্প হিসেবে জাজিরা-নড়িয়ার পদ্মা নদীর দক্ষিণ পাড় ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ হয়েছে গত ১০ বছরে।

প্রতিষ্ঠা করেছেন সেনেরচর বি এম মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয়, জাজিরা মাস্টার হাসান উদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বুড়িহাট আব্দুর রাজ্জাক কলেজ। শিক্ষার আলো বঞ্চিত গ্রামগুলোতে প্রতিষ্ঠা করেন ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জাতীয়করণ হয়েছে বি কে নগর বঙ্গবন্ধু কলেজ ও জাহিরা মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

বিদ্যুৎ সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, সদর উপজেলায় চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এবং ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জাজিরায় শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে যাবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি প্রসঙ্গে বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, আমি দেশ ও মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা আমার উদ্দেশ্য। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে প্রথমবার নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয়বার নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছি। এ সময়ে শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আমার ওপর আস্থাশীল। আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সদর উপজেলা ও জাজিরার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করতে পারব।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj