রাজশাহীতে পানি শোধনাগার নির্মাণসহ ১৭ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার নির্মাণসহ ১৭ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পদ্মা নদী থেকে এই পানি সংগ্রহ করা হবে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক সভা শেষে প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সভায় ১৭টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১১ হাজার ১৯৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৮১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১৯৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

একনেক সভায় ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ভূমি উন্নয়নের পর শুরু হবে মূল কাজ। ফোর লেন নির্মাণের জন্য ৩০২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা ফোর লেন নির্মাণ করা হবে। পদ্মা সেতুর জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষেই মূল কাজ শুরু করতে পারব। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ২৫৪ কোটি ১০ লাখ টাকা, বৈরাগীপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার প্রকল্পের খরচ ৩০২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নন্দিগ্রাম (ওমরপুর) তালোড়া-দুপচাঁচিয়া-জিয়ানগর আক্কেলপুর গোপীনাথপুর জেলা মহাসড়ক এবং নন্দীগ্রাম (কাথম) কালীগঞ্জ-রানীনগর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের বিদ্যমান চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স (বর্তমান বাপার্ড), কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা, ঢাকা জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও রংপুর সদর উপজেলায় যমুনেশ^রী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, উপক‚লীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, দ্য প্রজেক্ট ফর দ্য ইমপ্রæভমেন্ট অব রিসোর্স ক্যাপাসিটিজ ইন দ্য কোস্টাল এন্ড ইনল্যান্ড ওয়াটারস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj