প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ চলছে রংতুলির কাজ

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : দুয়ারে কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গত সোমবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পূজার ক্ষণ গণনা। দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। মাটির প্রলেপ দেয়া শেষ। প্রতিমায় রংতুলির কাজ করছেন।

মৃৎশিল্পী আশীষ পাল দীর্ঘদিন রামকৃষ্ণ মিশনে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন। তিনি জানান, আমার বাবা দীর্ঘ ৪২ বছর এখানে প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। আমিও ১৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছি। এবার পটিয়ায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও নান্দনিক প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনে।

এবার দুর্গোৎসবের থিম হচ্ছে মায়ের বন্দনা। পূজা উৎসব কমিটির সভাপতি ডা. প্রসেনজিৎ মিত্র জানান, ২০ শ্রমিক তিন মাস ধরে কাজ করছেন, মোট ব্যয় হচ্ছে ২০ লাখ টাকা।

এবার পটিয়ায় সার্বজনীন ১৮০ ও প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিগত মণ্ডপ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি ঋষি বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সৌমেন চক্রবর্ত্তী জানান। তারা বলেন, পটিয়া একটি অসাম্প্রদায়িক এলাকা। এখানে দুর্গোৎসব সব ধর্মের মানুষের মাঝে মেলবন্ধন রচনা করে।

পটিয়ায় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের উৎসব সম্পন্ন হয় সেজন্য সব মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

পটিয়া হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি ও পটিয়ার সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি বিমল মিত্র বলেন, পটিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উল্লাহ জানান, প্রত্যেক মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি মাদক ও ইভটিজিংমুক্ত পরিবেশের জন্য সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পূজা কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভার মাধ্যমে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলুল কাদের জানান, ইতোমধ্যে পূজা কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

পটিয়ার সাংসদ আলহাজ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশাসন সতর্ক থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে আইনের আওতায় নেয়া হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj