বৃষ্টিতে আমন চাষিদের সেচ সংকট কাটল

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

এম নাজিম মাহমুদ, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে : সেচ সংকটে বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আমন চাষিরা। আশানুরূপ ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। গত এক সপ্তাহের কড়া রোদে ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে ছিল। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় সেই বৃষ্টির দেখা পাওয়া গেল। স্বস্তির এই বৃষ্টি যেন চাষিদের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন কৃষক খুশি মনে আমন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। খরায় দুই উপজেলায় চাষিরা সেচ সংকটে দুশ্চিন্তাই ছিলেন। আমনের মাঠ যেন সবুজ রংয়ে সেজেছে।

দক্ষিণ ঢেমশার কৃষক সোলাইমান ৫ কানি জমিতে আমন চাষ করেছেন। পানি সংকটে জমিতে সেচ দিতে পারেননি। তিনি বলেন, থোড় বের হওয়ার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল না বলে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন বৃষ্টি হওয়ায় তা কেটে গেল। সব ঠিকঠাক থাকলে আশানুরোপ ফলন পাব বলে আশা করছি। বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা কৃষক মো. কাশেম বলেন, বর্গা নিয়ে ৭ কানি জমিতে ধান চাষ করেছি। পানি সংকট ও প্রচণ্ড রোদে মাঠ ফেটে গেছে। আমার মতো সবাই পানি সংকটে বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলেন। গত মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির দেখা পেয়ে দুশ্চিন্তা কেটে গেল। এই বৃষ্টিতে ধানক্ষেতে থোড় বের হবে। এখন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করা হচ্ছে। আবহাওয়ার অনুক‚ল পরিবেশ থাকলে দুমাসের মধ্যে ঘরে ধান তোলা যাবে।

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, পানি সংকটে আমন চাষিরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বৃষ্টি হওয়ায় এখন চাষিরা খুশি। এবার সাতকানিয়ায় ১২ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৫ টন ধান।

লোহাগাড়ার কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে আশানুরূপ ফলন হবে আশা করছি। এই মৌসুমে ১০ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার টন ধান।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj