বিজয়া মণ্ডপ সাজানো হয়েছে রাজপ্রাসাদের আদলে

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

নোয়াখালী প্রতিনিধি : সব অন্যায়-পাপকে ধ্বংস করতেই দুর্গা মর্তে এসেছিলেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন দুর্গাই পারে সব অপশক্তিকে বিনাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। ফলে যুগ যুগ ধরে এ শক্তিরূপী মা দুর্গার অর্চনা করে আসছেন তারা।

সারাদেশের মতো নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করতে যাচ্ছেন তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় বৃহত্তম উৎসব। বরাবরের মতো দেশের সবচেয়ে ব্যয় বহুল পূজা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, গোটা দেশ ও জাতির শান্তি-মঙ্গল কামনায় শুরু হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলোতে সামাজিক সমস্যা, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা পূরাকীর্তি, ঐতিহাসিক পটভূমির আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে মণ্ডপ। চৌমুহনীর বিজয়া মণ্ডপ সাজানো হয়েছে হিন্দি ছায়াছবি বাহুবলির মহেষপতি রাজপ্রাসাদের আদলে, ত্রিভূজে জীবন্ত দুর্গা মায়ের দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সমুদ্রের তলদেশের এবং হরপার্বতীর আদলে করা হয়েছে দশভূজা মণ্ডপ, সিতার পাতাল গমনসহ নানা থিমও রয়েছে মণ্ডপে।

চৌমুহনীর বিজয়া মণ্ডপের উদ্যোক্তা রিগান সাহা জানান, এ বছর তাদের মণ্ডপের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।

প্রতি বছরই তারা মণ্ডপে নতুনত্ব নিয়ে আসেন। মায়ের প্রতিমাকে ঠিক রেখে মূলত তারা মণ্ডপ সাজান নানা আদলে। প্রতি বছরই নোয়াখালী জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীরা তাদের মণ্ডপে পূজা দেখতে আসেন।

চৌমুহনীর আরেকটি পূজা মণ্ডপের নাম দশভূজা। ওই মণ্ডপে প্রধান শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পাস করা বিশ্বজিত পাল। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে কাজ শুরু করেছেন।

মণ্ডপের কাজও প্রায় শেষ। এখন শেষ বেলায় লাইটিংয়ের কাজ চলছে। নোয়াখালী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার শীল জানান, কয়েক মাস পর জাতীয় নির্বাচন আর তার আগেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুগোৎসব।

এ উৎসবটি যেন নিশ্চিন্তে নিরাপদে পালন করতে পারেন তার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ ভোরের কাগজকে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার দুটি পূজা মণ্ডপ বেড়ে নোয়াখালীতে ১৬২টি পুজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সামনে নির্বাচন, তাই এ মুহূর্তে দুর্গাপূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাথায় রেখে পূজা মণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বাইরে সাদা পোশাকে পুলিশ ও একাধিক মোবাইল টিম কাজ করবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj