‘সাধারণ মানুষের ডিম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা বেশি’ : আজ বিশ^ ডিম দিবস

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

মরিয়ম সেঁজুতি : আজ বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়। তবে ডিম নিয়ে আমাদের দেশে রয়েছে নানা ভ্রান্ত ধারণা। অন্যদিকে দিনে-রাতে কারণে অকারণে বাড়ছে ডিমের দাম। তবে মানুষের মাঝে ডিম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার বিশ্ব ডিম দিবসটি যৌথভাবে উদযাপন করবে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট ৭টি এসোসিয়েশনের সমন্বয়ে গঠিত বিপিআইসিসি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস)। এ বছর বিশ্বব্যাপী ডিম দিবসের ‘থিম’ হচ্ছে ‘প্রোটিন ফর লাইফ’। তবে আমাদের দেশে এবারে ¯েøাগান হচ্ছে- সুস্থ সবল জাতি চাই, সব বয়সেই ডিম খাই।

বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আজ বিনামূল্যে সিদ্ধ ডিম বিতরণ করবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, কারওয়ানবাজার, মিরপুর এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় শ্রমজীবী মানুষ, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হবে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন শিশু সদন ও এতিমখানা এবং বৃদ্ধাশ্রমের সদস্যদের জন্যও বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হবে। জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ডিম সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করে তুলতে সারা দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। ডিম খেলে ব্লুাড প্রেসার হয়, বাজারে নকল ডিম রয়েছে এবং ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে বলে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ভুল ধারণা রয়েছে। মূলত দেশের মানুষের মধ্যে ডিম খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ সুস্থ থাকতে চাইলে তার বছরে গড়ে ১১০টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির মতে, দেশের মানুষ বছরে ডিম খায় গড়ে মাত্র ৫০ থেকে ৫৫টি। দরিদ্রদের মধ্যে এ হার ১০ থেকে ১৫টির মধ্যে আটকে থাকে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বছরে জনপ্রতি গড়ে ২৭০টি ডিম খেয়ে থাকেন।

এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে দৈনিক ডিমের চাহিদা দুই কোটি ৭০ লাখ। বর্তমানে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন হচ্ছে তিন কোটি পিস। ডিম উৎপাদনে দেশে কোনো ঘাটতি নেই। তবে ২০২১ সালে প্রতিদিন ডিমের দরকার হবে ৪৫ কোটি পিস।

তথ্যমতে, দেশে ডিমের উৎপাদন বাড়লেও তা সুস্থ সবল জাতি গঠনে খুবই অপ্রতুল। পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে।

২০১৪ সালে দেশে ৬৩৯ কোটি পিস ডিম উৎপাদন হলেও সর্বশেষ ২০১৬ সালে তা হয়েছে ৮২১ কোটি পিসে উন্নীত হয়েছে। আর ২০২১ সালে ডিমের উৎপাদন ১ হাজার ৪৮০ কোটি পিসে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) এক হিসাব বলছে, চলতি বছরের শুরুর তুলনায় মাঝামাঝিতে এসে ডিমের উৎপাদন কমেছে অন্তত ২৫-৩০ লাখ।

খামারি ও আড়তদারদের মতে, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খামারিদের খরচ হচ্ছে সাড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় টাকা পর্যন্ত। খামারিরা প্রতিটি ডিম বিক্রি করছে সাত টাকা পর্যন্ত দামে। আড়তদাররা পাইকারি বিক্রি করছে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৮ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ৯ টাকা।

উল্লেখ্য, গত বছর ডিম দিবসে খামারবাড়িতে স্বল্পমূল্যে ডিম বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি। পরে এ নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলে ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর প্রেসক্লাব থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হবে। পুরানা পল্টন মোড় ঘুরে এসে পুরনায় তা প্রেসক্লাবে শেষ হবে। এরপর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে সকাল ১০টায়।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj