নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ-জাসদ টানাটানি, কোন্দল বিএনপিতেও

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে সারা দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেমন তাদের প্রস্তুতি, মাঠের অবস্থাইবা কি? এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন

মো. নূরে আলম বিপ্লব, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) নির্বাচনী এলাকা। প্রার্থীরা লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটিয়ে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। সমর্থন আদায়ে তৃণমূলে গণসংযোগসহ দলীয় উপর মহলেও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। মহাজোট ও ১৪ দলের প্রবীণ প্রার্থীদের পাশাপাশি এক ডজনেরও বেশি নতুন মুখ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিতে। আসনটিতে নৌকার মাঝি কে হবেন, তা নিয়ে আ.লীগ ও জাসদের মধ্যে টানাটানি চলছে। কোন্দল রয়েছে বিএনপিতেও।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির হাত থেকে আসনটিকে আ.লীগের দখলে আনেন এডভোকেট আবদুল লতিফ। তার মৃত্যুর পর পুনরায় আসনটি হারায় আ.লীগ। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে নির্বাচিত হন মহাজোট থেকে জাসদ প্রার্থী এডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন। ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় নির্বাচনে আসনটি পুনরায় আ.লীগের দখলে নেন বর্তমান সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল।

এরই মধ্যে তিনি এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন। তিনি এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাট নির্মাণসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, রাজধানী ঢাকা ও জেলা শহরের সঙ্গে নবীনগরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের কয়েকটি মেঘা প্রকল্পও হাতে নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ৪২২ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার ফলে সর্বসাধারণের কাছে প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল লতিফের পর বাদল উন্নয়নের রূপকার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলমত নির্বিশেষে

এখানকার সাধারণ জনগণের কাছে বাদলই তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। এ জন্য আ.লীগ নেতাকর্মীরা ১৪ দল থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে মেনে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন।

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বলেন, বাইরের কাউকেই মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন হবে। বর্তমান সংসদ সদস্যের সময়কালে নবীনগরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা পূর্বে কখনো হয়নি। আমরা তা হারাতে চাই না। সাধারণ মানুষও তাকে পছন্দ করেন। অবশ্যই ফয়জুর রহমান বাদলই মনোনয়ন পাবে ইনশাআল্লাহ। উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি ও আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট সুজিত কুমার দেবও একই সুরে জানান, বাহির থেকে মনোনয়ন দিলে তা মেনে নেয়া হবে না।

এদিকে ১৪ দল থেকে সাবেক সাংসদ, জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাহ জিকরুল আহমেদ খোকনের অবস্থানও খুবই শক্ত। তবে জিকরুল কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেবেন বলে জানান।

আ.লীগ থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আ.লীগ সদস্য, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ওরিয়ন গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এবাদুল করিম বুলবুল, জেলা আ.লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক নবীনগর কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক আলহাজ ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মোর্শেদ হোসেন কামাল, তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান ও একমাত্র মহিলা প্রার্থী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নাহার বেগম। এ ছাড়াও রয়েছেন- কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল হক আলামিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া টিপু ও যুবলীগ নেতা জহিরুদ্দিন সিদ্দিক টিটু। তবে সবার একটাই দাবি, আওয়ামী লীগ থেকেই যেন মনোনয়ন দেয়া হয়।

এদিকে বাদল মনোনয়ন বঞ্চিত হলে ওরিয়ন গ্রুপের স্বত্বাধিকারী এবাদুল করিম বুলবুলকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় আ.লীগ নেতারা দাঁড় করাতে পারেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

এক সময় জাতীয় পার্টির নবীনগরে শক্ত অবস্থান থাকলেও বর্তমানে তা নেই। এ অবস্থা থেকে উঠে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাপার চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা কাজী মামুনুর রশিদ।

বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলের সাবেক জিএস সাঈদুল হক সাঈদ এবং আলী আজ্জম জালাল। এর মধ্যে নাজমুল হোসেন তাপসই বর্তমান সংসদ সদস্য বাদলের বিপরীতে নির্বাচনী লড়াইয়ে হাল ধরতে পারবেন বলে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করেন। বিএনপিতে কিছুটা কোন্দল থাকলেও শেষপর্যন্ত সবাই দলের সিদ্ধান্তকে মেনে এক কাতারে দাঁড়াবে বলে বিএনপির অনুসারীরা মনে করেন।

এ ছাড়া রয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মাওলানা মেহেদী হাসান। তিনি মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখে এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৭ জন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj