শারদীয় দুর্গোৎসব : চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

সেবিকা দেবনাথ : দেশজুড়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিশ্রম স্বার্থক করতে শিল্পীরা এখন প্রতিমার গায়ে রং লাগাতে এবং দেবীর সাজসজ্জার কাজ করছেন। শুধু প্রতিমা শিল্পীরাই নয়, পূজামণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক আর ডেকোরেটরের মালিক-কর্মচারীরাও।

বোধনের মধ্য দিয়ে ১৪ অক্টোবর শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সবাই মেতে উঠবেন বাঙালির সার্বজনীন এ উৎসবে। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হবে। মন্দিরে মন্দিরে চলবে পূজার্চনা আর আরাধনা।

ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিমা শিল্পী হরিপদ পাল ও কালিপদ পাল এবং বাংলাবাজার নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়ির প্রতিমা শিল্পী বলাই পাল জানান, গত কয়েক মাস বিরামহীন প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এখন প্রতিমার গায়ে রং ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তাদের এখন কাজ করতে হচ্ছে।

প্রতি বছরের মতো এবারো শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার এলাকায় রাস্তার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী মণ্ডপ। এলাকার বিভিন্ন সংঘ এসব পূজার আয়োজন করেছে। মণ্ডপগুলোতে দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝাই এখন দায়। বিরামহীনভাবে ডেকোরেটর শ্রমিকদের খুটখাট পেরেক ঠোকার শব্দ চলছে। দুর্গোৎসবকে স্বার্থক করতে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে এখন এমনই দৃশ্য চোখে পড়ছে। মন্দির প্রাঙ্গণকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে মন্দিরগুলোতেও চলছে ঘষামাজা ও রংয়ের কাজ।

পূজা উপলক্ষে শাঁখারীবাজারের বিভিন্ন দোকানে চলছে সোলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন নকশার কাজ। পূজামণ্ডপ সাজাতে এসব নকশার চাহিদা বাড়ায়, বেড়েছে বিক্রিও। অস্থায়ী মণ্ডপগুলো সাজাতে এই সোলার নকশা বেশি

ব্যবহৃত হয়।

প্রতিমার সাজসজ্জা বিক্রির ধুম পড়েছে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতিবাজারে। দেবীকে দৃষ্টিনন্দন সাজে সাজিয়ে তুলতে পূজা আয়োজকরা এখন ছুটছেন শাঁখারীবাজার ও তাঁতিবাজারে। দেবী দুর্গা, লক্ষী ও সরস্বতীর জন্য শাড়ি, ব্লুাউজ, জরি, গণেশ ও কার্তিকের ধুতির জন্য আয়োজকরা ছুটছেন শাঁখারীবাজার ও দর্জিবাড়িতে। দেবীর সঙ্গে সঙ্গে অসুরের সাজসজ্জায়ও যেন কোনো কমতি না থাকে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি আয়োজকদের। প্রতিমাকে নান্দনিক করে তুলতে অসুরকেওতো সাজাতে হবে। অসুরের জন্য চাই জমকালো পোশাক। শুধুই কি পোশাক? দেবীর গহনা, হাতের শাঁখা, তীর, ধনুক, চক্র, গদা, খড়গ, ত্রিশূল, অসুরের অস্ত্রওতো চাই ঠিক সময়ে। সেদিকেও দৃষ্টি আছে আয়োজকদের।

শাঁখারীবাজারের মা দুর্গা শঙ্খ ভাণ্ডার, মা মনসা শঙ্খ ভাণ্ডার, নাগ ভাণ্ডার, মাতাজি ভাণ্ডার, পদ্মা ভাণ্ডার, পোশাকঘরসহ বিভিন্ন দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে প্রতিমার সাজসজ্জার জিনিসপত্র। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের জিনিসপত্রের জোগান দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। শাঁখারীবাজারের পোশাকঘরের বিক্রেতা মাধব দত্ত জানান, পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে দোকানে বাড়ছে ভিড় ও বেচাকেনা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj