সংকেত নেমে ৩-এ : ঘূর্ণিঝড় তিতলি দুর্বল হয়ে পড়ছে

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : প্রতিবেশী দেশ ভারতের দুই রাজ্য উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড় তিতলি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ৪ থেকে নামিয়ে ৩ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে দুর্বল হলেও এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপক‚লীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী দুদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলি মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে দেশের উপক‚লীয় ১৯টি জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের দিকে এলে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, ভোলা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর এবং শরীয়তপুর জেলায় ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এসব জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সব সময় জেলার সঙ্গে কর্মকর্তারা যোগাযোগ রাখছেন। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার আমাদের শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে।

অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকালও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথেও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে সড়কপথ সচল রাখতে ১৯টি ফেরির মধ্যে ১২-১৩টি চলাচল করছে। ভোরের কাগজের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বেশ তর্জন-গর্জন করে বঙ্গোপসাগর থেকে উপক‚লের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। তখন এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এটি বিস্তৃত ছিল ভারতের উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা ছিল, তিতলি ভারতের ৩টি রাজ্যে আঘাত হেনে ছোবল মারবে বাংলাদেশের খুলনা-সাতক্ষীরা উপক‚লে। এর প্রভাবে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিও হচ্ছিল। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর বেলা উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশে তীব্র বেগে আঘাত হানার পর দুর্বল হতে থাকে তিতলি।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’র প্রভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশ। ওই দুই রাজ্যে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তিতলির প্রভাব খুব বেশি পড়েনি; ফলে তেমন ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj