সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি : ৩ মন্ত্রীর প্রতিশ্রæতি পূরণ না হওয়ায় হতাশা

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের ৮, ২১, ২৮, ২৯, ৩১, ৪৩ ও ৫৩-এর মতো বিতর্কিত ধারাগুলোকে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থী, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনে তিনজন মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রæতি পূরণ না হওয়ায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সম্পাদক পরিষদের দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে সম্পাদক পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। সভা শেষে এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগের কথা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের ব্যাপারে তিনজন মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রæতি রক্ষা না হওয়ায় সম্পাদক পরিষদ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। সম্পাদক পরিষদ অচিরেই শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন- ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, নিউজ টুডের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ সফি, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম।

সম্পাদক পরিষদ বিষয়টিকে তিনজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রæতিতে সংগঠনের আস্থা ও বিশ^াসের লঙ্ঘন মনে করে। সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকটি হয়েছিল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উদ্যোগে, যিনি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে নতুন এক দফা আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রæতি দেন এবং সম্পাদক পরিষদকে তাতে আমন্ত্রণ জানান। একই প্রতিশ্রæতি ওই সভায় আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রæতি আলোচনা শুরুর একটি সুযোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমে হারিয়ে গেছে বলে সম্পাদক পরিষদ মনে করে। সাংবিধানিক এখতিয়ারবলে রাষ্ট্রপতি বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠালে ওই আলোচনা হতে পারত।

সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের ধারাগুলো সংবিধানের ৩৯ (ক) ও (খ) ধারায় প্রদত্ত বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জড়িয়ে থাকা মূল্যবোধ, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, জাতিসংঘ সনদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিতে সুরক্ষিত গণতন্ত্র, মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও মৌলিক অধিকারের নীতি এবং নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে জানানো হয়, পুলিশি হস্তক্ষেপ, খেয়াল খুশিমতো গ্রেপ্তারের কবল থেকে বাকস্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি ও সম্পাদক পরিষদের অবস্থান জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বেলা ১২টায় একটি সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj