হাওর অঞ্চলে শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে

বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় সেখানকার মানুষকে। ছোটবেলা হাওরের গ্রামের স্কুলেই আমার পাঠ নেয়া শুরু হয়েছিল অন্য সবার সঙ্গে। আমরা সেখানে হেমন্ত আর বর্ষা বলে পুরো বছরকে দুভাগে ভাগ করে ফেলি যাতায়াতের পথ সুবিধার বিলিবণ্টনে। শুকনোর মৌসুমে যদিও এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েগুলো গৃহস্থালি কাজের পরেও স্কুলে যেতে পারে, কিন্তু বর্ষায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথটি পানিতে ডুবে যায়। তাই সাঁকো দিয়ে, না হয় নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। পার হওয়ার সময় সাঁকো নড়ে ওঠে। ছোট ছোট হাত-পা কেঁপে ওঠে, তখন ভয় করে; আমার এখন মনে হয় আসলে সেখানে কেঁপে ওঠে এ দেশের একটা অংশ। আর এভাবেই ভয় নিয়ে, শিক্ষা উপকরণের অপ্রতুলতা নিয়ে, ঠিকমতো বই-খাতা না পেয়ে বড় হতে হয় তাদের। শিশু অধিকারের যাবতীয় সনদ এখানে মাথা নিচু করে থাকে। ভাবতে পারি না।

২০১৬ সালে চির অবহেলিত হাওরাঞ্চলে শিক্ষার হার বাড়ানো ও দরিদ্র পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘোষণার প্রায় দুবছর অতিবাহিত হওয়ার পথে, কিন্তু আলোর মুখ দেখছে না এই প্রকল্পটি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ‘বিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্য’ থেকে জানা যায়, জেলায় ১ হাজার ৪৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। কিন্তু ভয়াবহ ব্যাপার হলো, ১৬৬টি গ্রামে এখনো কোনো বিদ্যালয়ই নেই। হয়তো এ গ্রামের শিশুরা পাশের গ্রামে পড়তে যায়, অথবা অনেকেই হয়তো যায় না। পত্রিকার খবরে পড়েছি, ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়ায় এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জেলার ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে পড়ছে। এখানকার ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত। আর ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। হাওরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এখানে বর্ষায় একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো, না হয় কাঠের ছোট নৌকা। আবার নৌকা কেনার সামর্থ্য নেই অনেকেরই। তাই সড়ক পথের ব্যবস্থা না থাকার কারণেই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। অবশ্য অনেক গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত হয় বাঁশের সাঁকো। আর সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার ফলে অনেক শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। আবার একই কারণে শিক্ষকরা সময়মতো উপস্থিত হতে পারেন না। জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে শিক্ষার প্রসারে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর কোনো কিছুই এখানে কেউ করছেন না। অবশ্য পত্রিকায় পড়েছি, ভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের এই জলাভূমি অঞ্চলের জন্য স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা নানা পরামর্শ-পরিকল্পনার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু যুগ যুগ ধরে সেই গুরুত্বপূর্ণ দাবি অপূর্ণই রয়ে যাচ্ছে।

হাসান হামিদ
খিলগাঁও, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj