নতুন বিষয়ে পড়াশোনা

বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অপরাধ বিজ্ঞান : চোর-পুলিশ খেলার ফাঁকে চোরকে কৌশলে ধরার বুদ্ধি করতে গিয়ে গোয়েন্দা হওয়ার ইচ্ছা মনে উঁকি দিয়েছে অনেকের মধ্যেই। ছোটবেলার সেই ইচ্ছাপূরণ হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ালেখার মাধ্যমে। অপরাধ, রহস্য সম্পর্কে রয়েছে যাদের অনেক আগ্রহ, যারা একটু রোমাঞ্চপ্রিয় কিংবা গতানুগতিক বিষয়ের বাইরে পড়ালেখা করতে চান, তারা পড়তে পারেন ক্রিমিনোলজি কিংবা অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে ক্রিমিনোলজি বা অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্রিমিনোলজি বিভাগে বর্তমানে ব্যাচেলর অব অনার্স, মাস্টার্স, সঙ্গে রয়েছে এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ। এই বিভাগের স্নাতক প্রোগ্রাম চার বছরের। মোট আটটি সেমিস্টারে বিভক্ত। প্রতিটি বিষয়ে চার ক্রেডিট করে ধরা হয়। মাস্টার্স করতে অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে অনার্স (স্নাতক) শেষ করতে হবে। মাস্টার্স প্রোগ্রাম এক বছরের। এছাড়াও বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয় টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বিভাগটির নাম ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা : দুর্যোগ মোকাবিলা করে কীভাবে বাংলাদেশকে একটি দুর্যোগ-সহনশীল দেশে পরিণত করা যায় এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ানো হচ্ছে। কিন্তু যুগোপযোগী এ বিষয়টির ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্রভাবে চালু হয় ‘ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারিবিলিটি স্টাডিজ’।

প্রাথমিকভাবে ২০০৯ সাল থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও ২০১২ সাল থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে স্বতন্ত্র এ ইনস্টিটিউটে। এই বিষয়ে পড়াশোনা করার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনেও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এ বিষয়ের বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এনজিও এবং উন্নয়ন সংস্থাতেও কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে এ বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের।

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগ : ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র বিভাগ। প্রথমে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্সের মধ্য দিয়ে এ বিভাগের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে চালু করা হয় অনার্স কোর্স। এ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সের পর এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগও রয়েছে। টেলিভিশন সাংবাদিকতা, টেলিভিশন প্রোগ্রাম, চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফি নিয়ে যাদের আগ্রহ তাদের জন্যই এই বিভাগটি।

এ বিষয়ে পড়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোয় কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও সিনেমা নির্মাণের সুযোগ তো রয়েছেই।

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ : নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১২ সালে। প্রথম বছরে মাস্টার্স দিয়ে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে এই বিভাগে অনার্স চালু করা হয়। বর্তমানে স্নাতক ৩টি ব্যাচ এবং স্নাতকোত্তর ২টি ব্যাচ চলছে। প্রতি বছর অনার্সের জন্য ২৫টি সিট বরাদ্দ থাকে। পারমাণবিক শক্তিপ্রকল্প উন্নীতকরণ, নতুন প্রকল্প স্থাপন প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে এ বিভাগের অগ্রযাত্রা হয়। এই বিভাগে ভালো ফলাফলকে কেন্দ্র করে স্কলারশিপের সুযোগ আছে। প্রতি বছর ১০ জনকে স্কলারশিপের জন্য রাশিয়ায় পাঠানো হয়। ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তি প্রকল্প, পরমাণু নিয়ে গবেষণা করার ভালো সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশ, বিদেশের বিভিন্ন নিউক্লিয়ার কোম্পানিতে কাজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে।

সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ : ২০১৫ সালে অনার্সে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগটি প্রথম চালু হয়। অবশ্য মাস্টার্সে ২০১৩ সাল থেকেই চালু রয়েছে দুই ব্যাচ মিলে। সমুদ্র সম্পদের অজানা জ্ঞান আহরণ করা, সামুদ্রিক অর্থনীতি নিয়ে এ বিভাগে পড়াশোনা করা যায়। ভবিষ্যতে সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সমুদ্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বিসিএসে চাকরি পাওয়ার সুযোগ আছে।

::ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj