সম্ভাবনাময় ‘শকুনি লেক’

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকা, প্রতিটি জেলাই কোনো না কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত। ‘শকুনি লেক’ হলো তেমনই এক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ‘হ্রদ’ যেটা মাদারীপুর জেলার সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এটা একটি কৃত্রিম হ্রদ কিন্তু একে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্পের এক অপার সম্ভাবনা। স্থানীয়ভাবে এটাকে ‘মাদারীপুর লেক’ বা ‘লেকের পাড়’ও বলে থাকে। জানা যায়, ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর শহরের গোড়াপত্তন হয় এবং গত শতকের চল্লিশের দশকে লেকটি খনন করা হয়। ১৯৪৩ সালে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় যখন অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম তখন ২০ একর জমিতে লেকটি খনন করে তৃতীয়বারের মতো মাদারীপুর শহরকে রক্ষা করা হয়। সে সময়ে এ অঞ্চলে মাটিকাটা শ্রমিকের অভাব থাকায় এর খননে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে দুই হাজার শ্রমিক ভাড়া করে আনে ব্রিটিশ সরকার। দীর্ঘদিন অযতœ-অবহেলায় পড়ে থাকার পর ২০১৩ সালে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করে মাদারীপুর পৌরসভা। শকুনি লেক প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে গড়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শাস্তি ঘাটলা, পানাহার ও মাদারীপুর ঘড়ি টাওয়ার। বছরে লেকটির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে এ হ্রদ মাদারীপুরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লেকের নীল পানি হৃদয়ে প্রশান্তি বয়ে আনে। এর চারপাশে রয়েছে সারি সারি নারকেল গাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ। বর্তমানে এর সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। স্বচ্ছ জলের মৃদু ঢেউ আর জলছোঁয়া বাতাসে আনন্দে শিহরিত হয়ে ওঠে দর্শনার্থীরা। বিকেল বেলা এই লেকে এতটাই জনসমাগম হয় যে কোনো খালি জায়গা পাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে। শহরের পরিবার-পরিজন এখানে আসেন অবসর সময় কাটাতে, গল্প-আড্ডায় নিজেদের প্রফুল্ল করতে। এ লেককে কেন্দ্র করে মাদারীপুরকে পর্যটন শহরে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

:: মাদারীপুর।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

গভীর সংকটে জাবি

মাহফুজা অনন্যা

আবারো আবরারের অপমৃত্যু!

Bhorerkagoj