বিশ্ব পানি সপ্তাহ

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গত ৩০ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার ‘ওয়াটার, ইকোসিস্টেম এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক দৈনিক ভোরের কাগজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজন করা হয়। বিশ্ব পানি সপ্তাহ উপলক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, ২৬ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পালিত হয় বিশ্ব পানি সপ্তাহ। ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন কোলাবরেটিভ কাউন্সিল, ওয়াটার এইড, বাংলাদেশ ওয়াশ অ্যালায়েন্স, ফ্রেশ ওয়াটার একশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া বাংলাদেশ, স্যানিটেশন এন্ড ওয়াটার ফর অল এবং দৈনিক ভোরের কাগজ যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান, বুয়েট। গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেয়া আলোচকদের বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের বিশেষ সংখ্যা।

গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকবৃন্দ

ড. মো. মুজিবুর রহমান

অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়

মো. আবুল কাশেম

পরিচালক (উন্নয়ন), ঢাকা ওয়াসা

শফিকুল ইসলাম

কান্ট্রি ডিরেক্টর, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

ইয়াকুব হোসেন

ন্যাশনাল কনভেনার, ফানসা-বিডি

অলক কুমার মজুমদার

কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর, বাংলাদেশ ওয়াশ অ্যালায়েন্স

শাহ মো. আনোয়ার কামাল

নির্বাহী পরিচালক (ইউ. এস. টি) এবং ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর, (ডব্লিউ. এস. এস. সি. সি.), বাংলাদেশ

খোন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত

নির্বাহী পরিচালক, সিইউপি

ড. মো. লিয়াকত আলী

পরিচালক, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ

এস. এম. এ. রশীদ

নির্বাহী পরিচালক, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ

মো. নূরুল ওসমান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাইসাওয়া ফান্ড ম্যানেজমেন্ট

মোহাম্মদ গোলাম মোক্তাদির

নির্বাহী প্রকৌশলী, স্যানিটেশন সেক্রেটারিয়েট (ডিপিএইচই)

রবিন রায়হান আহ্মেদ

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

হাবিবুর রহমান

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এ্যাগ্রো ইকলোজিক্যাল

মো. যোবায়ের হোসেন

পরিচালক, র্ডপ

সঞ্চালক

শ্যামল দত্ত

সম্পাদক, ভোরের কাগজ

শ্যামল দত্ত

সম্পাদক, ভোরের কাগজ

ইকোসিস্টেম বাদ দিয়ে পরিবেশ বা পানি কোনোটাই রক্ষা করতে পারব না। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকলে হবে না একই সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগও দরকার। এ বিষয়ে যারা কাজ করছেন এবং করতে আগ্রহী তাদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা দরকার।

ড. মো. মুজিবুর রহমান

অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়

পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে মানুষের জীবনমান ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এমনকি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়নও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষ ও প্রাণীকুলের বসবাস ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। একে বাসযোগ্য করতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে। এ জন্য পানি ও স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ জরুরি।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং নগরীর বসবাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা এখনো এ ধরনের পরিকল্পনাই গ্রহণ করতে পারিনি। আর বাস্তবায়ন তো দূরের কথা।

পৃথিবীর অনেক দেশেই বর্তমানে তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য বজায় থাকে কিনা সে বিষয়ে বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে তা দিয়ে সমস্যার সমাধান কখনো সম্ভব নয়। দিন দিন এ সমস্যা আরো জটিল হবে।

বড় বড় পাইপ বা কালভার্ট করে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে না। উন্নত বিশে^র দেশগুলোতে বড় বড় পাইপ বা কালভার্ট নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে। তারা বড় বড় বিল্ডিংয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করছেন যাতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে।

শাহ মো. আনোয়ার কামাল

নির্বাহী পরিচালক (ইউ. এস. টি) এবং ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর, (ডব্লিউ. এস. এস. সি. সি.)

বিশ্ব পানি সপ্তাহ উপলক্ষে আমাদের আজকের এই আয়োজন। আমরা যখন ‘ওয়াটার, ইকোসিস্টেম এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে দেশে বসে আলোচনা করছি ঠিক তখনই স্টকহোমেও এই একই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আজকের আলোচনায় যেসব সুপারিশ ও পরামর্শ আসবে আমি বিশ্বাস করি সেগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ পকিল্পনায় কাজে লাগবে

অলক কুমার মজুমদার

কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর, বাংলাদেশ ওয়াশ অ্যালায়েন্স

২০৫০ সালে সারা বিশ্বের লোকসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় নয়শ কোটি। এবং এর প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি লোক বাস করবে নগরে। যদি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আসি তবে ব্যুরো অব স্ট্যাটেস্ট্রিকে বলা হয়েছে ২০৩০ সালে এই শহরের লোকসংখ্যা হবে ৬৬ মিলিয়ন। এই মুহ‚র্তে জনসংখ্যা হচ্ছে ৪০ মিলিয়ন। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে আমরা কি ইকোসিস্টেমকে ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত আছি? যত বেশি নগরায়ন হবে তত বেশি পানি নষ্ট হবে। স্যানিটেশনের ওপর চাপ বাড়বে। স্যানিটেশন, পানি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে। এই নগরায়ন এবং গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আসা যদি আমরা ঠেকাতে না পারি তাহলে কোনো অবস্থাতেই ইকোসিস্টেমকে ঠিক রাখতে পারব না। শহরে যে ক্রমাগত লোকসংখ্যা বাড়ছে এ ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট সচেতন আছে। তবে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। জলাশয় সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, হাওর বোর্ড সমন্বিতভাবে কাজ করলে ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্টে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব। এছাড়া ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে।

মো. যোবায়ের হোসেন

পরিচালক, র্ডপ

এসডিজিতে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না বলা হয়েছে। তবে এই ‘কাউকে’ কারা তা ঠিক করা হয়নি। এটা ঠিক করতে হবে। ম্যাপিং লাগবে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা তারা করবে।

কিন্তু তাদের ওইখানে কোনো সামর্থ্য দেয়া হয়নি। প্রতিটি ইউনিয়নে পরিকল্পনার কথা বলা আছে এবং ওয়াটার সিকিউরিটি প্ল্যান যদি করা হয় তাহলে কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণে সহজ হতো। পানি আইন ও বিধিমালা আছে।

মূল কথা হচ্ছে আমাদের সব কিছু আছে। কাজ হচ্ছে। এখন বাস্তবায়ন দরকার।

সেই ক্ষেত্রে যারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। মাল্টি স্টেক হোল্ডারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।

মো. আবুল কাশেম

পরিচালক (উন্নয়ন), ঢাকা ওয়াসা

২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসা পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তা করে। প্রতি বছরই পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করে ৭০ শতাংশ পানি ভূউপরিস্থ পানিতে যাওয়ার কাজ করছি। পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে পানি আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পদ্মা থেকে ৪৫ কোটি লিটার পানি আনার কাজ ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি মাসের মধ্যে শুরু হবে। মেঘনা থেকে আনা হবে ৫০ কোটি লিটার পানি। ঢাকা শহরের চারপাশে পাঁচটি স্যানিটেশন প্ল্যান করারও পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি বস্তিতে পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

শফিকুল ইসলাম

কান্ট্রি ডিরেক্টর, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

আমাদের দেশে গুড প্র্যাক্টিসের কোনো স্কেলআপ নেই। দুয়েকটা ভালো কাজ করি কিন্তু কোনো স্কেলআপ করতে পারিনি। হাতিরঝিলের মতো ভালো আরেকটি উদ্যোগ আমরা নিতে পারিনি। কালশীর দুঃখ আমরা বলি। কালশীর যে ইকোসিস্টেম ছিল তা আমরা ধ্বংস করেছি। পরিবেশ, ইকোসিস্টেম এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয় দরকার। ঢাকা থেকে নদীপথে পটুয়াখালী, বরিশাল কিংবা চাঁদপুরের দিকে গেলে দেখা যাবে নদীর দুধারে এখনো অসংখ্য ঝুলন্ত ল্যাট্রিন। লঞ্চ ও ট্রলার থেকেও নদীতে বর্জ্য পড়ে পানি দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়া নদী দখলের চিত্রও আমরা দেখি।

এসডিজির বড় মন্ত্র হচ্ছে কাউকে পেছনে রাখা যাবে না। এই কথাটা কাগজে যতটা সুন্দর করে লেখা আছে এর বিবেচনা কিন্তু পরিকল্পনার মধ্যে নেই। যাদের আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বলছি তাদের ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছি। ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, সমগ্র দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে।

ঢাকা দেশের একটি ক্ষুদ্র অংশ। দেশের এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পর্যন্ত পৌঁছেনি। সেখানে আমাদের কাজ করতে হবে।

খোন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত

নির্বাহী পরিচালক, সিইউপি

ইকোসিস্টেমকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহার না করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যারা বস্তিতে থাকে। নগর দরিদ্ররা যাতে স্বল্প মূল্যে পানি পায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

পানির মূল্য ও বণ্টন নির্ধারণ করতে হবে। ধনী এবং দরিদ্ররা একই দামে পানি কিনবে সেটি ঠিক নয়।

ড. মো. লিয়াকত আলী

পরিচালক, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ

বিশ্বের অবাসযোগ্য নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। অবাসযোগ্য নগরীকে কীভাবে আমরা বাসযোগ্য করব সেটি আমাদের ভাবতে হবে। আমরা বলি পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু টেকসই উন্নয় লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৬.১-এ বলা হয়েছে নিরাপদ পানির কথা।

আমরা যদি এসডিজির আলোকে বলি তাহলে বলতে হবে; বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। পানির মূল্য আমাদের অনুধাবন করতে হবে। এখনো সস্তায় যখন আমরা কিছু বিক্রি করি তখন বলি পানির দামে বিক্রি করে দিলাম। আমাদের অনুধাবন করতে হবে পানি মোটেও সস্তা নয়। এটি মূল্যবান। আমাদের চিন্তা ও পরিকল্পনা সেভাবেই করতে হবে।

মো. নূরুল ওসমান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হাইসাওয়া ফান্ড ম্যানেজমেন্ট

আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে তিনটি বিষয় রয়েছে। ওয়াটার, ইকোসিস্টেম এবং হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট। এই তিনটি বিষয় একটির সঙ্গে যেমন আরেকটির পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক রয়েছে তেমনি এদের মধ্যে সংঘাতময় সম্পর্কও রয়েছে। ইকোসিস্টেমের যেটুকু ক্ষতি হয়েছে সেটুকু যেন আমরা পূরণ করতে পারি সেই দিকটি আমাদের ভাবতে হবে।

গোলাম মোক্তাদির

নির্বাহী প্রকৌশলী, স্যানিটেশন সেক্রেটারিয়েট (ডিপিএইচই)

এসডিজি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে যে ম্যাপিং ও পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রীও দিকনির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করি। আমরা এখন ভূগর্ভস্থ পানির থেকে ভূউপরিস্থ পানির দিকে যাচ্ছি। সে জন্য পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজও করছি।

মো. ইয়াকুব হোসেন

ন্যাশনাল কনভেনার, ফানসা-বিডি

আমাদের বসে থাকার আর সময় নেই। মানব সম্পদকে বাঁচাতে হলে নদীকে রক্ষা করতে হবে। নদীকে কেন্দ্র করেই সভ্যতা গড়ে উঠেছে।

আর আমরা নদীগুলোকে ধ্বংস করছি। তাই মানবসম্পদ রক্ষা করতে হলে আমাদের নদী রক্ষা করতে হবে।

এস. এম. এ. রশীদ

নির্বাহী পরিচালক, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ

বৈশ্বিক এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় খুবই সময়োপযোগী। পানির মােত একটি মৌলিক বিষয় শুধু মানুষের জন্য নয়, সমগ্র জীবজগৎ ও প্রকৃতির সঙ্গে জড়িত। বেঁচে থাকার উপাদান হিসেবে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য পনিসম্পদ, বনসম্পদ, শিল্প, মৎস্য ও পশুসম্পদ সবকিছুকে আমরা রক্ষা করতে চাই তবে দেখব আমরা একে অপরের পরিপূরক। ওয়াটার, ইকোসিস্টেম ও হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট নিশ্চিত করতে হলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।

রবিন রায়হান আহ্মেদ

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

শহরাঞ্চলের স্যানিটেশন অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আমাদের অর্জনকে ধরে রাখতে হলে শহরাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শহরাঞ্চলের যে ঝুলন্ত ল্যাট্রিন আছে সেগুলো আমাদের অন্যান্য পানির উৎসকে দূষিত করছে। পানির পাশাপাশি স্যানিটেশন ও হাইজেনিকের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

হাবিবুর রহমান

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এ্যাগ্রো ইকলোজিক্যাল জোনগুলোকে আমরা রক্ষা করতে পারছি না। জোনগুলোর পাশেই গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এ কারণে সেগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। ন্যাশনাল ওয়াটার অ্যাক্ট-২০১৩ অনুযায়ী ওয়াটার রিসোর্স কাউন্সিল করার কাথা। এই উদ্যোগ কী অবস্থায় রয়েছে? সে বিষয়ে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj