এলডিসি থেকে উত্তরণে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভূমিকা

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ড. এম এ মতিন

মহাপরিচালক, আরডিএ, বগুড়া

দারিদ্র্য হ্রাস ও অগ্রগতি দেখিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সারিতে ওঠার সিঁড়িতে পা রেখেছে বাংলাদেশ। এ এক নতুন দিকচিহ্ন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে করা পদক্ষেপগুলোর সাফল্যই এর কারণ। আর্থ-সামাজিক খাতের অর্জনগুলো অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমিয়েছে। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়সহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ঘটেছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। বেড়েছে মাথাপিছু আয় যা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশ তথা এ অঞ্চলের বঞ্চনা ও শোষণের ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের শাসন ও শোষণ নীতির ফলে যে ছিটেফোঁটা উন্নয়ন ব্রিটিশ ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলে কিছুটা হলেও তৎকালীন আমাদের এ পূর্ববঙ্গে তার কিছুই হয়নি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পরে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। আমরা বাঙালিরা তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা সব ক্ষেত্রে শোষিত ও নির্যাতিত হয়েছি। শোষিত ও নির্যাতিত বাঙালি জাতি যখন আশাহত, তখন একটি বজ্রকণ্ঠ দিশাহারা ও পিছিয়ে পড়া জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আমাদের বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এ দেশ ও দেশের মানুষকে কোনো অপশক্তি দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি তার সুনিপুণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করেন। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রের ফলে তিনি তার সোনার বাংলা গড়ার লালিত স্বপ্ন দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক সময়ের তথাকথিত তলাবিহীন ঝুড়ি আজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

দেশ স্বাধীনের পূর্ববর্তী বছর ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৩৮ ইউএস ডলার, ১৯৯০ সালে ২৯৭ ইউএস ডলার, ২০০৬ সালে ৪৯৪ ইউএস ডলার এবং ২০১৭ সালে ১,৬১০ ইউএস ডলার। বিগত এক দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা এলডিসি থেকে উত্তরিত হয়েছি। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিডিপি) সম্প্রতি বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করেছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এ তিনটির যে কোনো দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের মানদণ্ড অনুযায়ী বছরে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ ইউএস ডলার। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬১০ ইউএস ডলার। মানবসম্পদ সূচক ৬৬ শতাংশ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২৯ শতাংশ। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হয় ৩২ শতাংশ বা তার কম, বাংলাদেশের রয়েছে ২৪৮ শতাংশ।

বিগত এক দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন অধিদপ্তর, সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল হলো এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ। অন্যান্য বিভাগ/সংস্থার ন্যায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড এ সফলতায় অবদান রেখেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বরাদ্দকৃত ২২ কোটি টাকা দিয়ে ১৯৭৪ সালে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কার্যক্রম শুরু করে। একাডেমির মূল দায়িত্ব প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা ও এডভাইজরি সার্ভিসেস বা পরামর্শ সেবাদান করা।

গ্রাম-বাংলার আর্থ-সামাজিক ও কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়নে আরডিএ উদ্ভাবিত বিভিন্ন মডেল কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।

দেশের পল্লী এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে আরডিএর কিছু সবুজ উদ্ভাবনী মডেল।

সবার জন্য সুপেয় পানি

পল্লী এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গ্রামীণ পাইপ লাইনের সাহায্যে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ মডেলটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

আরডিএর সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় দেশের ২ লাখ ৫৯ হাজার পরিবারের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ এবং ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালার মাধ্যমে ৩৭,০১৮ একর জমি উন্নত সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

পল্লী এলাকায় সৃষ্ট এ ধরনের সুযোগ সুবিধা বদলে দিয়েছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান। পানি সম্পদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কার্যক্রম গ্রামের জনগণের মধ্যে এনে দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য।

জ্বালানি সমস্যা সমাধান

কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার (পল্লী জৈব সার) মাটির উর্বরতা উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম। বর্তমানে ১১২টি গ্রামে কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্ট মডেলটি চলমান রয়েছে।

স্বল্প ব্যয়ে সমবায় ভিত্তিক বহুতল পল্লী জনপদ ভবন নির্মাণ

অপরিকল্পিত বিচ্ছিন্নভাবে আবাসন ও শিল্প-কারখানা নির্মাণের ফলে প্রতি বছর কৃষিজ জমি হ্রাস পাচ্ছে। কৃষি জমি সাশ্রয়ের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে বহুতল বিশিষ্ট আবাসন সুবিধাদি গ্রামাঞ্চলে নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কমিউনিটিভিত্তিক আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ড ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে মানুষ গ্রামে বসে শহরের আধুনিক নাগরিক সুযোগ সংবলিত বিল্ডিংয়ে বসবাস করতে পারবে।

মঙ্গা নিরসনে সম্পদ হস্তান্তর ও নারী ক্ষমতায়ন চর জীবিকায়ন প্রকল্প (ঈখচ)

দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীর চরাঞ্চলে প্রায় ৩০ লাখ জনবসতি রয়েছে। দেশের মূল এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জীবিকা নির্বাহের বহুবিধ সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। গ্রামীণ এই জনগোষ্ঠী শুধু যে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত তাই নয় বরং এদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে প্রবেশাধিকারের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। কৃষি খাত ছাড়া অর্থনীতির অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক খাতে চরাঞ্চলবাসীদের অংশ নেয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে চর জীবিকায়ন কর্মসূচি (সিএলপি) ১ম পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পটি দেশের কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলার মোট ১৫০টি ইউনিয়নে এবং ২য় পর্যায়ে আটটি জেলা ৩৩টি উপজেলার ১২৮টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হয়। কর্মসূচির আওতায় চরাঞ্চলের ১ লাখ ৩৩ হাজার হতদরিদ্র পরিবারে ৫ লাখ ৮৫ হাজার হতদরিদ্র মানুষ প্রত্যক্ষ সুবিধা পেয়েছে এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে।

প্রকল্প থেকে কর্মসূচি এপ্রোচ

সাহায্য নির্ভর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ক্রমান্বয়ে সরে এসে নিজস্ব অর্থ, প্রযুক্তি ও সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন সহায়ক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোকে প্রোগামেটিক এ্যাপোচে নেয়া হয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার কৃষি, সেচ, পানি সম্পদ উন্নয়ন ও পল্লী উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব মডেলসমূহের সাফল্যসমূহ মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণ, জনপ্রিয়করণ এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা তথা প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করার লক্ষ্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ২০০৩ সালে আরডিএ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে একাডেমির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে সেন্টার ফর ইরিগেশন এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিআইডব্লিউএম) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে সিআইডব্লিউএমের কার্যকারিতা ও অর্জিত সাফল্য বিবেচনায় বিওজি সিআইডব্লিউএমর আদলে আরো ৬টি নতুন সেন্টার।

যেমন- (১) সিড এন্ড বায়োটেকনোলজি সেন্টার; (২) ক্যাটেল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার; (৩) রিনিউঅ্যাবল এনার্জি রিসার্চ সেন্টার; (৪) চর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার; (৫) কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এবং (৬) পল্লী পাঠশালা রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষি, সেচ, পানি সম্পদ উন্নয়ন ও পল্লী উন্নয়ন ভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

পাবলিক-প্রাইভেট পাটর্নারশিপ (পিপিপি) কার্যক্রম

গবেষণা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্বনামধন্য বেসরকারি কৃষিভিত্তিক/বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের (এসিআই লিমিটেড, লাল তীর সিডস লিমিটেড, ইনোভেশন প্রাইভেট লিমিটেড, সুপ্রিম সিড, গেটকো এগ্রোভিশন লিমিটেড, কামাল মেশিন টুলস্ এবং লিমরা প্রা. লি.) সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টরশিপের (পিপিপি) আওতায় যৌথ উদ্যোগে সফলতার সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পিপিপির আওতায় চলমান কর্মকাণ্ড, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রযুক্তিগত সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) আরডিএর সঙ্গে কামাল মেশিন টুলস যৌথভাবে ওয়ার্কশপে আট ধরনের (মাড়াই, ঝাড়াই ও নিড়ানী যন্ত্র, চোপার মেশিন, বেড ফর্মার ইত্যাদি) ২৩৩২টি কৃষি যন্ত্রপাতি ও চার ধরনের ৩২০০ খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া অপর একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কৃষক ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’, ঢাকার সঙ্গে পিপিপি মডেলে কার্যক্রম চলছে যা একাডেমির বিভিন্ন উপপ্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন উৎপাদিত ২৮ রকমের কৃষি পণ্য ও দ্রব্য পল্লী ব্র্যান্ডে প্যাকেটিং, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একাডেমিতে আগত প্রশিক্ষণার্থী ও দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের জ্ঞান আহরণসহ প্রযুক্তি ব্যবহারে এসব কর্মকাণ্ড প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তিমেলা পিপিপির আওতায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ মেলায় প্রদর্শিত কৃষির সর্বশেষ প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ প্রশিক্ষণ লাভ করে।

আরডিএর পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ

পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর স্থাপন

বৃহত্তর রংপুর ও জামালপুর অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কৃষি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় এনে সমাগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রংপুর অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রæত পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর আরডিএ, বগুড়ার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন করার নিমিত্তে আরডিএ, বগুড়ার অধীনে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার আদলে একটি স্বতন্ত্র একাডেমি স্থাপনের উদ্দেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। একইভাবে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবন-যাত্রার মানোন্নয়নে জামালপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষার মূল ¯্রােতধারায় আনয়ন

পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুলটি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিভৃত পল্লী এলাকার দরিদ্র গ্রামবাসীর সন্তান-সন্ততিদের শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। ২০০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কলেজ শাখা সংযোজিত হয়। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ সফলতা অর্জন করেছে। এখান থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছে এবং অনেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ৬৮ অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ৩৭ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি অনুমোদিত একাডেমির প্রদর্শনী খামার এবং ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কলেবর বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ১০তলা ফাউন্ডেশন ভবনের ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। পল্লী এলাকায় নারী শিক্ষা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় ১০তলা ফাউন্ডেশনযুক্ত ৪তলা ‘মহিলা হোস্টেল’ নির্মাণসহ একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য ভৌত সুবিধাদি নিশ্চিত হবে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সালে বগুড়ায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা পল্লী উন্নয়নের সব উপাদানে ভরপুর আরডিএ ক্যাম্পাসকে বলা হয় গ্রামীণ টেকনোলজি পার্ক। পল্লী উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরডিএ, বগুড়া বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্ভাবনী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার মানুষ বিশেষত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন- চরবাসী, ছিটমহলবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তি¡ক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

পল্লী উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে গৌরবান্বিত হয়েছে আরডিএ যার মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৪, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৫ ও ১৪১৭, আফ্রো-এশিয়ান রুরাল ডেভেলপমেন্ট (আরডো) অ্যাওয়ার্ড, ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ড লন্ডন। অতীতের সাফল্য ধরে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ২০২১ সালের মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি।

আরও সংবাদ...'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj