শিশুর চিকুনগুনিয়া

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চিকুনগুনিয়া কি?

চিকুনগুনিয়া নামটির সঙ্গে এখন কম-বেশি সবাই পরিচিত। বিশেষ করে এই মৌসুমে নতুন এই ভাইরাস জ্বর নিয়ে সবাই বেশ শঙ্কিত। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও এই জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি শিশুর জন্মের ১ সপ্তাহের মধ্যে যদি অন্তঃসত্ত্বা মা এই রোগে আক্রান্ত হন, তবে নবজাতকেরও চিকুনগুনিয়া হতে পারে।

চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণ কি কি?

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

* জ্বর

* মাথা ব্যথা

* হাড়ে ব্যথা

* চোখের কোটরে ব্যথা

* হাড়ের স্ফীতি ইত্যাদি।

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর হঠাৎ করে জ্বর তীব্র হতে পারে। ৩ থেকে ৫ দিনে যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখন শরীরে চুলকানি এবং র‌্যাস বা ফুসকুড়ি উঠতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে র‌্যাসের পরিবর্তে কালচে-বাদামি বা ধূসর বর্ণের দানা দেখা দিতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে আরেকটি ব্যতিক্রম লক্ষণ হলো ¯œায়ুবিক জটিলতা; যেমন- খিঁচুনি বা এনকেফালাইটিস।

চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ¦রের মধ্যে পার্থক্য কি?

* ডেঙ্গুর মতো অনুচক্রিকা বা প্লাটিলেট কমে গিয়ে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি চিকুনগুনিয়াতে নেই।

* ডেঙ্গুতে হাড় ব্যথা হলেও ফুলে যায় না, কিন্তু চিকুনগুনিয়াতে শিশুর হাড়-সন্ধিতে প্রদাহের ফলে তা ফুলে যায়।

* চিকুনগুনিয়াতে ব্যথার মাত্রা এত তীব্র থাকে যে রোগী ব্যথার কারণে হাঁটতেই পারে না। এজন্য একে ‘ল্যাংড়া-জ্বর’ বলে।

চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা কি?

* ভাইরাসজনিত জ্বর বলে এটি সপ্তাহখানেকের মধ্যেই (সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন) ভালো হয়ে যায়।

* পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার; পাশাপাশি বয়সানুযায়ী প্যারাসিটামলই এ রোগের একমাত্র চিকিৎসা।

* ব্যথা কমাতে বরফ লাগানো যেতে পারে।

* ব্যথা একটু কমে গেলে ফিজিওথেরাপি দেয়া যেতে পারে।

* ডেঙ্গুতে ব্যথানাশক একেবারে নিষেধ করা হলেও চিকুনগুনিয়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

* তবে শিশুর বয়স ১ বছরের কম হলে অথবা অন্যান্য জটিলতা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

ডা. প্রহলাদ কুমার স¦প্নীল

শিশু বিভাগ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj