গ্রেনেড হামলা মামলার যুক্তি উপস্থাপন : ‘হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তি প্রথমটির ধারাবাহিকতা’

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় ল’ পয়েন্টের ওপর যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে দুজন প্রসিকিউটর যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করার পর তা অব্যাহত থাকা অবস্থায় আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার বন্ধের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার শুরু করে। বিচার শেষ হয়। এর পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র। এ কাজে তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা জঙ্গিগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে। তাদের ধারণা ছিল- শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারলে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের মসনদ চিরস্থায়ী হবে। ওই কারণেই হাওয়া ভবনের চক্রান্তে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। মামলাটির বিচারকালে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করেছিল। এরপর মামলাটির প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমানের সহযোগী এডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, অধিকতর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামিপক্ষ যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আসামিপক্ষ আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণে সেখানেও কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়নি। এ ছাড়া, তারা সাক্ষ্য আইনের ১০ ও ২২ ধারা প্রয়োগ এ মামলায় হতে পারে না মর্মে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতের কিছু সিদ্ধান্ত আদালতে উপস্থাপন করেন।

এরপর যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে মামলার প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এক যুগের বেশি সময় পর হলেও আমরা দুটি মামলা একসঙ্গে এ পর্যায়ে আনতে পেরেছি। এ সময় ৬১ জন সাক্ষীর পর অধিকতর তদন্তে আইনের কোনো প্রকার লঙ্ঘন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি অধিকতর তদন্তে মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তিতেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। হান্নানের স্বীকারোক্তি একটি আরেকটির ধারাবাহিকতা। আসামি হান্নানের স্বীকারোক্তির মধ্যে একটি অংশ আছে ক্রিমিনাল কন্সপিরেসির, যা আদালতকে বিবেচনায় নিতে হবে।

এরপর প্রসিকিউটর আগামী সপ্তাহে তিন দিন যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করার আবেদন করেন। এ সময় বিচারক বলেন, আমার মনে হয়, তিন দিন প্রয়োজন হবে না। দুই দিন দিলেই হবে। একদিন রাষ্ট্রপক্ষ বলবেন, আরেক দিন আসামিপক্ষ বলবেন। আর আসামিপক্ষ থেকে এস এম শাহজাহান জবাব দেবেন। ওই দুই দিনে আমরা শেষ করতে পারব। এরপর বিচারক আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj