বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে সংসদে প্রধানমন্ত্রী : পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন হচ্ছে

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর দুবার সরকার গঠনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়, পরোক্ষভাবে দেশি-বিদেশি কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এজন্য জাতির পিতাকে হত্যার অন্যান্য পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

মো. মনিরুল ইসলামে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবল বাড়ানো হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে এবং আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কসংক্রান্ত ৯ দফা দাবির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপিত ও বিবেচিত হবে। এ আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরও রাস্তায় চলাফেরায় সাধারণ নাগরিকরা সচেতন না হওয়ায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটল, এরকম একটা আন্দোলন হলো, তারপরও আমরা দেখি মানুষের মধ্যে সচেতনতা নাই। যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছে। ছোট শিশুকে

নিয়ে হঠাৎ দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়া বা দুটি বাস দাঁড়িয়ে আছে তার ফাঁক দিয়ে বেরুতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট হলো। গাড়িতে বসে মাথা বা হাত বের করে রাখা- তখন তো অ্যাক্সিডেন্ট হতেই পারে। এর দায় কার তা ভাবতে হবে। তাই ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনের সঙ্গে সঙ্গে পথচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া এটি থামবে না। এ ছাড়া ট্রাফিক নিয়মটা স্কুল থেকে আস্তে আস্তে শেখানো উচিত।

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকল্পে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, যানজট কমাতে ঢাকা শহরের চারদিকে রিং রোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ রিং রোড এলিভেটেডেট করা হবে।

মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার রূপকল্প-২০২১, দিনবদলের সনদ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে, দেশের জনগণের সার্বিক মুক্তি-অর্জন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগ সরকার নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০১৫ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায়। গত ১৭ মার্চ জাতির পিতার ৯৮তম জন্মদিনে বাংলাদেশ জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার প্রাথমিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’-এর আলোকে আগামী তিন বছরের মধ্যে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘রূপকল্প-২০৪১’ প্রণয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করব।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj