ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে প্রতারণা!

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রযুক্তির এ যুগে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তারে প্রতিটি শহর ছেয়ে গেছে। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার ঝুলছে ‘ইন্টারনেট সংযোগ’ দেয়া হয়। বিদ্যুৎ, ডিশ এন্টেনার তারের পাশাপাশি ঝুলছে ব্রডব্যান্ডের তারও। দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রাপ্তির নিশ্চতায় প্রায়োজনই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগ নিচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তাড়নায় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নিতে গ্রাহককে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা সংযোগ চার্জ দিতে হয়। তারপর চাহিদা অনুযায়ী ইন্টারনেটের গতির ওপর ভিত্তি করে মাসিক বিল নির্ধারণ করা হয়। ২ এমবিপিএসের জন্য ৬০০-৭০০ টাকা, ৪ এমবিপিএসের জন্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ইত্যাদি হারে। কিন্তু মাস শেষে নির্ধারিত মূল্য নিলেও শর্ত মোতাবক ইন্টারনেটের গতি ঠিক রাখে না। দুর্বল ইন্টারনেট নিয়ে বিপাকে পড়ে যান গ্রাহকরা। যারা অফিসিয়াল কাজকর্ম করেন, তাদের অবস্থা হয় বেশি খারাপ। ইন্টারনেটের দুর্বলতায় হাজার হাজার কাজ আটকে যায়। অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। অভিযোগ করলে নানা অজুহাত দেখায়।

একটি এলাকায় একজন কিংবা দুজন নয় অনেকেই এমন ইন্টারনেটের ব্যবসা করেন। কিন্তু প্রত্যেকেই যেন গ্রাহকদের ঠকিয়ে চলেছেন। ১ এমবিপিএসের টাকা নিলেও গ্রাহকরা ১২৮ কেবিপিএস গতিও পায় না। অথচ দামের ক্ষেত্রে ঠিকই ষোলোআনা। মূলত এই ব্রডব্যান্ড ব্যবসা ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় জবাবদিহির অভাবে গ্রাহকদর ঠকিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

এ ছাড়া গ্রাহকরা কোথাও অভিযোগ করার সুযোগ পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায় একটি নীতিমালা তৈরিকরণের উদ্যোগ হাতে নেয়া প্রয়োজন। গ্রাহকরা প্রতারিত হলে অভিযোগ দায়ের করার মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার আইনের দ্বারা ব্যবসায়ীদের জরিমানার আওতায় আনতে হবে।

মোহাম্মদ অংকন
উত্তরা, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj