কলরেটের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের সঙ্গে দুষ্ট আচরণ

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রযুক্তির সাম্রাজ্যে বিশ্ব এখন ধরাশায়ী। বিশ্বকে হাতের মুঠোয় তুলে দিয়েছে বর্তমান প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রযুক্তির আওতায় এসেছে। প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার যখন বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে, ঠিক তখনই কলরেটের মূল্যবৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের কাজ জনগণকে চিন্তামুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর আথর্-সামাজিক পরিবেশে রাখা। কিন্তু সেই সরকারই কিনা জনগণকে কোণঠাসা করে রাখছে। ফোন কোম্পানিগুলো কলরেটের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে অবাধ কথা বলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। অল্প কিছু লাভেও কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুফিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

এ ছাড়াও ফোন কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকির অবস্থা দেখে বাংলাদেশের মানুষ বিস্মিত হয়েছে। তারপরও জনগণের কথা চিন্তা না করে বাংলাদেশ সরকার ফোন কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারে কলরেটের মূল্যবৃদ্ধি করে দিয়েছে। জনগণের কথা চিন্তা করে যেখানে সরকারের উচিত ছিল সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেয়া। সর্বনিম্ন রেট সম্পর্কে কোনো কথা না বলা। ফোন কোম্পানিগুলো ইচ্ছা করলে বিনা পয়সায় কথা বলার সুযোগ বাংলাদেশের জনগণকে দিতে পারত। সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন রেট নির্ধারণ করায় ফোন কোম্পানিগুলো সুযোগ পেয়ে জনগণের ঘারের ওপর এসে বসেছে। কলরেটের এই মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের সঙ্গে দুষ্ট আচরণ করেছে সরকার। বিপাকে পড়েছে অল্প আয়ের হাজার হাজার মানুষ। যারা কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে লুফে নিয়ে যাচ্ছে, কর ফাঁকিতে যাদের অবস্থান শীর্ষে, তাদের সরকার এত সুযোগ করে দিল কেন? কলরেটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ জনগণ বিরক্ত। কলরেটের ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। জনভোগান্তি থেকে জনগণকে মুক্ত করতে কলরেটের মূল্য হ্রাস করার বিষয়ে ভাবতে হবে । বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মো. আজিনুর রহমান লিমন
ডিমলা, নীলফামারী।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj