গার্মেন্টস শ্রমিকদের দুরাবস্থা আর কতকাল

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এক সময় আমাদের দেশে ব্যক্তি উদ্যোগে পোশাক তৈরি করা হতো। ষাটের দশকের শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পোশাক শিল্পকারখানা গড়ে উঠল। শুরু হলো নতুন বিপ্লব। ধীরে ধীরে দেশের চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হলো। মানসম্মত পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নন্দিত হলো সারাবিশ্বে। বর্তমানে তৈরি পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। আমাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হচ্ছে এ খাত থেকে। আমাদের জিডিপিতে পোশাক শিল্পের অবদান ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এ সেক্টরে নিযুক্ত রয়েছে। যার ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিক। যারা নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে পোশাক শিল্পের উন্নতির লক্ষ্যে। দৈনিক ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা একাধারে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। বহির্বিশ্বে আমাদের পোশাক শিল্পের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু আজ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যারা এই মহান সেক্টরের প্রাণ, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমরা বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়েছি, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি, প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে সেই মহান শ্রমিকরা আজ ভালো নেই। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘জোড়াতালির জীবন শ্রমিকের’ নামে একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জীবনের করুণ কাহিনী। প্রতি মাসের পারিবারিক ব্যয়, বাসা ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, ছেলেমেয়ের পড়ার ব্যয়ভার বহন করা একজন তৈরি পোশাক শ্রমিকের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পোশাক শিল্পে শ্রমিকরা পান মাত্র ৫৩০০ টাকা।

অক্সফামের গবেষণায় বাংলাদেশে একজন মানুষের সাধারণভাবে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন ২৫২ ডলার। অথচ বাংলাদেশের তার এক-পঞ্চমাংশ বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদনে দেখা যায়, চীনে শ্রমিকদের ন্যূনতন মজুরি ১৫৫ ডলার, ভিয়েতনামে ১০০ ডলার, ভারতে ৭৮ ডলার, কম্বোডিয়ায় ১২৮ ডলার, পাকিস্তানে ৯৯ ডলার এবং বিশ্বের দ্বিতীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারী দেশ বাংলাদেশে তা মাত্র ৬৮ ডলার। উপরের প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যের চিত্র।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাবনার সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবিতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘেরাও করেছে। তারা ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মজুরি দাবি উত্থাপন করেছে। অপরদিকে মালিকদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। যা সত্যিই শ্রমিকদের জীবন নির্বাহের জন্য অপর্যাপ্ত। আশাকরি তৈরি পোশাক শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিবে। মালিকরা শ্রমিকদের অবদান ও জীবননির্বাহের কথা ভেবে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্দিষ্ট করতে উদ্যোগ নিবেন।

মো. মাহবুবুর রহমান সাজিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj