সুনামগঞ্জে শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট চালু হবে কবে?

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০১৪ সালে কলকাতা থেকে দেশে ফেরার সময় হরিদাসপুরের (বেনাপোল) ইমিগ্রেশনে লম্বা লাইন দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম। তখন বুঝতে পেরেছি, সম্ভাবনাময় ও যোগ্য বর্ডার এলাকায় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা কতটা। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে শুনেছিলাম, আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরায় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ও শুল্ক স্টেশন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ও শুল্ক স্টেশনের কাজের অগ্রগতি কোথায়?

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জেনেছি, সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ডলুরা শুল্ক স্টেশনের বিপরীতে ভারতের বালাট শুল্ক স্টেশনটি চালুকরণের বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ও ৯ জুন ভারতে অনুষ্ঠিত জয়েন ওয়ার্কিং গ্রুপ অব ট্রেডের সভায় আলোচনা হয়েছিল। এমনকি সুনামগঞ্জের ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্কবন্দর চালু করতে দুদেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের ওই পারের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় নাকি আমদানি ও রপ্তানি করা হয়নি। তবে এরপর ২০০৮ সালে সীমান্তের ওপারের উল্লিখিত সড়কটি নির্মাণ হয়েছে। এরপর ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর ভারতের মেঘালয়ের একটি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ও সুনামগঞ্জ চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে ডলুরা শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেন। ডলুরা এলাকায় শুল্ক স্টেশনের প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও কাস্টমস কর্মকর্তারা যৌথসভাও করেছিলেন। আবার ২০১৭ সালের মধ্যেই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরায় শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়ন্টে চালু হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান। এরপর সুনামগঞ্জের ডলুরা স্থলবন্দরের স্থান নির্ধারণের জন্য কাস্টম ও ইমিগ্রেশন সেন্টার এবং রাজস্ব বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ডলুরা পরিদর্শন করেছিলেন ২০১৭ সালের মার্চ মার্চ মাসে একদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে ডলুরা স্থলবন্দরের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। ডলুরা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কাস্টম ও ইমিগ্রেশন সেন্টার এবং রাজস্ব অফিসসহ স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের জন্য ১০ একর এবং বন্দরের জন্য বন্দর শেড, ট্রাক টার্মিনাল, গুদামঘর ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ১৫ একর জায়গা অধিগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয় সেদিন। আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে।

সুনামগঞ্জের ডলুরা স্থলবন্দরটি চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এতে ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই লাভবান হবে। ভারত ১৫০ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। ভারতের এই বিশাল বাজারে প্রবেশের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

হাসান হামিদ

খিলগাঁও, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj