দুবাইয়ে কঠোর অনুশীলনে টাইগাররা : লঙ্কাবধের ফর্মুলা দিলেন মাহমুদউল্লাহ

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খেলা প্রতিবেদক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়া কাপের চতুর্দশ আসর অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো হবে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে। আর মাত্র একদিন পর মাঠে গড়াচ্ছে ৬ জাতির এ টুর্নামেন্ট। এর আগে দুই দুইবার ফাইনালে ওঠেও শিরোপা জিততে পারেনি টাইগাররা। এবার শিরোপা জিততে মরিয়া স্টিভ রোডসের শিষ্যরা। দুবাইয়ের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে টুর্নামেন্ট শুরুর এক সপ্তাহ আগে দেশ ছেড়েছে মাশরাফি বাহিনী। দুবাইয়ে পৌঁছে কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে সাকিব-মাশরাফিরা। শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই এশিয়া কাপের পর্দা উঠবে। এশিয়া কাপের শিরোপা জিততে অংশগ্রহণকারী দলগুলো শেষ মুহ‚র্তে তাদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে। বর্তমানে আরব আমিরাতে বেশ গরম। এই গরমের মধ্যে টাইগাররা দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমিতে কঠোর অনুশীলন করছে।

দুবাইয়ের আবহাওয়া সম্পর্কে মাহমুদউল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে এখানে খুব গরম। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এখানের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে আমাদের। পরিস্থিতি যেমনই হোক, সেটিকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে ইতিবাচকভাবে। তিনি আরো বলেছেন, প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের হারাতে হলে খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্রিকেটারদের আরব আমিরাতের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে বাংলাদেশের হয়ে আমিরাতের মাটিতে সব চেয়ে বেশি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তামিমের। এশিয়া কাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার জন্য একেবারেই তৈরি তামিম। দুবাইয়ে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পিএসএলে আরব আমিরাতের মাটিতে দুটি হাফসেঞ্চুরি আছে এই মারকুটে ব্যাটসমানের। দুটি ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতেছেন। এই অভিজ্ঞতা তামিমকে নিঃসন্দেহে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এগিয়ে রাখবে। শুধু নিজেই নয়, তামিমের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাটসম্যানদেরও আমিরাতের উইকেট বুঝতে সাহায্য করবে। এ ছাড়াও ড্যাশিং ওপেনার তামিম প্রতিপক্ষের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন তা অনেক বোলারেরই জানা আছে। তার ব্যাট গর্জে উঠলে তিনি প্রতিপক্ষ বোলারের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারেন।

এশিয়ার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পারফরমেন্সের দিক থেকে গত এক বছরের পরিসংখ্যানে, ওপরের দিকে আছেন তামিম ইকবাল। আর এই পারফরমেন্সের বেশিরভাগ সময়ই তিনি ব্যাট চালিয়েছেন ওয়ানডেতে। গত ৯ মাসে ৮০.২৮ গড়ে ৫৬২ রান করেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে তার ব্যাট থেকে এসেছে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফসেঞ্চুরি। এ ছাড়াও বাংলাদেশের সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সীমিত ওভারের সিরিজ জয়ে তামিমের ব্যাট সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তিন ওয়ানডের দুটিতেই রয়েছে সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে আছে একটি হাফসেঞ্চুরি। এসব পরিসংখ্যানের আলোকে বলা যায় এশিয়া কাপের মঞ্চে সেরাদের কাতারে জায়গা করে নিতে পারেন তামিম ইকবাল, যদি তিনি তার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেন। প্রতিটা টুর্নামেন্টে সবারই নজর থাকে কিছু সেরা ক্রিকেটারের ওপর। সেরাদের সেই তালিকায় আছেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। তাই যে কজন ব্যাটসম্যানকে চোখে চোখে রাখবে বোলাররা তাদের মধ্যে তামিম অন্যতম। শুধু তামিম নয়; সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, লিটনরাও প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj