ফতুল্লায় টায়ার তৈরির কারখানায় আগুন

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি টায়ার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পোস্ট অফিস রোডে ইস্ট এশিয়ান কোম্পানি নামের কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্টেশনের ১০টি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। এটি হোসেন টায়ার এন্ড টিউব কোম্পানির একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কারখানার নিচ তলায় গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার আতঙ্কে কারখানার শ্রমিক ও এলাকার মানুষ এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, ফতুল্লার বিসিক, শ্যামপুর ও ঢাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা পৌনে এগারোটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কারখানার গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, ফার্নেশ আয়েল ও মেশিনারিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেনি। ইস্ট এশিয়ান কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জাফর ইকবাল জানান, ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার পোস্ট অফিস রোডে ৪৪১-৪৪৮ প্লটের প্রায় ৬৫ শতাংশ জমির ওপর এই কারখানাটি কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কারখানাটিতে ট্রাক, মিনিবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজিসহ বিভিন্ন ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের চাকার টিউব ও টায়ার উৎপাদন করা হয়। তাইওয়ান, জার্মানি, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই কারখানার মেশিনপত্র ও মালামাল আমদানি করা হয়েছিল। আগুনে কারখানার বেশির ভাগ মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কারখানায় উৎপাদিত টায়ার, টিউব, টায়ার উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল, কটন সুতা, কেমিক্যাল, ফার্নেশ অয়েল পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ মুহূর্তে আমরা জানাতে পারব না। তিনি জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। যে কারণে তাদের কেউ হতাহত হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে নিজেরাই আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও পরবর্তী সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে পুরোদমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপসহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ জানান, সকাল ৮টা ২০ মিনিটের সময় ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে ঢাকার ইউনিটগুলো ফতুল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। কারখানাটিতে দাহ্য পদার্থ কেমিক্যাল, সুতা, রাবার ও রাবার তৈরির অয়েল থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর কর্মীদের ত্বরিত প্রচেষ্টার কারণে কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধণ জানান, আগুনের খবর পেয়ে বিভিন্ন স্টেশন থেকে আসা ১০টি ইউনিটের কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj