পরীক্ষা নিয়ে চাপ

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যে কোনো পরীক্ষাই টেনশনের উদ্রেক করে। পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা টেনশন কিংবা চিন্তা হওয়াটা দোষের কিছু নয়। পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা বা টেনশনের দরকারও রয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা টেনশন বা চিন্তাভাবনা পরীক্ষার প্রস্তুতিকে বেগবান করে তোলে, পড়াশোনায় গতি ফিরিয়ে আনে। সবকিছু মিলিয়ে একটি পরীক্ষা পরীক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। পরীক্ষার প্রস্তুতিপর্বে শারীরিক চাপটাই প্রধান হলেও পরীক্ষার ঠিক আগে সঙ্গে মানসিক চাপটাও যোগ হয়-

কেউ কেউ পরীক্ষা নিয়ে বাড়তি মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। এই মানসিক চাপ অনেক পরীক্ষার্থীকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। পরীক্ষা নিয়ে টেনশন করেন না এমন পরীক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। এই বিষয়টিকে বলা হয় পরীক্ষাভীতি। পরীক্ষা নিয়ে টেনশনের বিষয়টি নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

যেমন- যার প্রস্তুতি ভালো থাকবে তার টেনশনও কম থাকবে। প্রস্তুতি ভালো থাকার পরও কিছুটা টেনশন থেকেই যায়। কিন্তু অনেকে আছেন যারা অযথাই টেনশনে ভোগেন। প্রস্তুতি শত ভালো হওয়ার পরও এদের টেনশনের অন্ত নেই। এ রকম টেনশন মাস্টারদের নিয়েই বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। তবে পরীক্ষা শুরুর পর পর যখন পরীক্ষাগুলো ভালো হতে থাকে তখন এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের টেনশন ক্রমান্বয়ে কমে যায়। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে আস্থা ফিরে পাওয়ার জন্যই এদের টেনশন আর থাকে না। আর এক ধরনের পরীক্ষার্থী আছেন যারা সব সময়েই সবকিছু নিয়ে একটু কম টেনশন করেন। এরা প্রকৃতিগতভাবেই এই টেনশনহীনতা অর্জন করে থাকেন। এরা অল্প প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা ভালো করেন, কারণ এরা যা জানেন তা পরীক্ষার খাতায় লিখে আসতে পারেন। আরেকটা গ্রুপ আছেন যাদের প্রস্তুতি একেবারেই ভালো থাকে না, এদের কাছে যে কারণেই হোক পরীক্ষা কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ফলে পরীক্ষা নিয়ে এদের কোনো টেনশনও হয় না। যাই হোক শরীরের ওপর পরীক্ষা মানসিক ও দৈহিক চাপ সৃষ্টি করে থাকে। পরীক্ষার সময় পড়াশোনা করতে হয়, প্রস্তুতির প্রায় পুরো ঘটনাটা ঘটে মস্তিষ্ককে নিয়ে। মস্তিষ্কের প্রভাব পড়ে গোটা শরীরে। এ সময় মস্তিষ্ককে একটু বেশি কাজ করতে হয়। অন্য সময় মস্তিষ্ক যে কাজ ছাড়া বসে থাকে তা কিন্তু নয়। মস্তিষ্ককে যে যত বেশি ক্রিয়াশীল রাখবে সে পরীক্ষায় তত বেশি ভালো করবে। অর্থাৎ যে নিয়মিত পড়াশোনা করবে তার মস্তিষ্ক তত বেশি ক্রিয়াশীল থাকবে।

পরীক্ষার সময়ে মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হচ্ছে এডরেনালিন নামক হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ। এডরেনালিন শরীরের জন্য একটি প্রয়োজনীয় হরমোন, যা শরীরকে সক্রিয় হওয়ার কাজে উদ্দীপনা জোগায়। কিন্তু অতি মানসিক চাপ এই এডরেনালিন হরমোনের নিঃসরণকে বাড়িয়ে দেয় এবং কিছু অস্বস্তিকর উপসর্গের সৃষ্টি করে। তবে শারীরিক পরিশ্রমে এই এডরেনালিন ব্যবহƒত হয়। তাই শারীরিক পরিশ্রমে এই এডরেনালিনের মাত্রা কমে আসে। সুতরাং অতি মানসিক চাপের ফলে নিঃসরিত এডরেনালিনের মাত্রা কমাতে হাল্কা ব্যায়াম করতে হবে। এই ব্যায়াম শরীরে উদ্যম ফিরিয়ে এনে মনকে চাঙ্গা করে তুলবে এবং অতি এডরেনালিনজনিত উপসর্গ যেমন- বুকের ধুকপুকানি, ঘনঘন শ্বাস, মাংসপেশির খিঁচুনি ভাব ইত্যাদি কমিয়ে আনবে। পরীক্ষার সময় কায়িক পরিশ্রম না হলেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষুধা পায়। কিন্তু সঙ্গে মানসিক চাপ যোগ হওয়ার ফলে মুখে রুচি থাকে না অনেকের। খাওয়ার সময় গিলতে অসুবিধা হয়, মুখ শুকিয়ে থাকে। পরীক্ষার টেনশনে অনেকের মুখে এক ধরনের আলসার দেখা দেয়। এই আলসার খুবই কষ্টদায়ক। এই আলসারের নাম অ্যাপথাস আলসার। অন্যান্য মানসিক চাপ থেকেও অ্যাপথাস আলসার হতে পারে। তবে পরীক্ষার্থীদের মধ্যেই এটি বেশি দেখা যায়। পরীক্ষার সময় অনেকেরই ঠিকভাবে ঘুম হয় না কিংবা নিদ্রাহীনতায় পেয়ে বসে অনেকের। এই নিদ্রাহীনতা পরীক্ষার্থীর জন্য সুফল বয়ে আনে না। পরীক্ষার ঠিক আগে অনেকেই আক্রান্ত হয়ে থাকে টেনশন আর ডায়রিয়ায়। এই ডায়রিয়া জীবাণুঘটিত ডায়রিয়া নয়। পরীক্ষার টেনশনের ফলে পরিপাকতন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণ বেড়ে যায়। ফলে বারবার বাথরুমের চাপ দেখা দেয়, ঘনঘন পাতলা পায়খানা হতে থাকে। পরীক্ষার সময় কেউ কেউ অমনোযোগী হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছে এটিও একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। যার নাম অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার উইথ হাইপার অ্যাকটিভিটি। এই সমস্যায় আক্রান্ত পরীক্ষার্থী অমনোযোগিতার পাশাপাশি অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে। এ জন্য শিগগিরই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। পরীক্ষার সময় শরীরের জন্য বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। পরীক্ষার সময় পড়াশোনার সময়টি নির্দিষ্ট করে অতিরিক্ত রাতজাগা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত রাত জেগে পড়াশোনা অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj