রাজশাহীতে হাইকোর্টের রুল মানছে না কর্তৃপক্ষ : জমি অধিগ্রহণ না করেই হাইটেক পার্ক নির্মাণকাজ অব্যাহত

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক, রাজশাহী : মহানগরীর বুলনপুর এলাকায় বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন ৪ দশমিক ১১ একর জমি অধিগ্রহণ না করেই নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি জমি অধিগ্রহণ না করায় গত ২১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারক মামুনুর রহমান ও বিচারক আশিষ রঞ্জন দাস। আদালতের রায় অমান্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে এই ৩ কর্মকর্তাকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও এখন পর্র্যন্ত নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম এসব অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বুলনপুরে ৪ দশমিক ১১ একর সম্পত্তি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। কিন্তু ওই সম্পত্তি অধিগ্রহণ বা অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তর-২ থেকে সেখানে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণকাজ শুরু করে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে আপিল বিভাগ ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে আদালতে নির্দেশনা অমান্য করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। জমির গাছপালা কর্তন, পুকুর ভরাট এমনকি জমির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ করে সেখানে অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চলমান রাখায় গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। আদালতের রায় অমান্য করায় কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রাজশাহীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা, দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিটি) ও রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতেও বলা হয়। তবে তারা কী জবাব দিয়েছেন তা তারা জানতে পারেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক ফজলুল হক হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কাজ বন্ধ রাখার কোনো অবকাশ নেই। বরং হাইকোর্টের রায় নিয়ে এলেই কেবল কাজ বন্ধ করা হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj