কালাইয়ে আলুর বাজার নিম্নমুখী : দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী ও কৃষক

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলায় হঠাৎ করে আলুর বাজার নি¤œমুখী হওয়ায় আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকরা হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বিক্রি করবেন নাকি আরো কিছু দিন সংরক্ষণ করবেন, দর আরো কমবে নাকি বাড়বে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রকম ভেদে ৮৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আলুর দাম ৭ দিনের ব্যবধানে ৫০-১০০ টাকা কমেছে। তাদের মতে ৭ দিন আগে ৮৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা দেশি জাতের লাল পাকরি আলু বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়, গ্র্যানোলা (সাদা) জাতের আলু বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকায়, ক্যারেজ আলু বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়, ডাইমন্ড (সাদা) জাতের আলু বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫৭০ টাকায়, রোমানা (পাকরি) জাতের আলু বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৩০ টাকায় এবং কার্ডিনাল ও অ্যাস্টরিক্স (লাল) জাতের আলু বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। বর্তমানে দেশি জাতের লাল পাকরি আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৬০ টাকায়, গ্র্যানোলা (সাদা) জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়, ক্যারেজ আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ টাকায়, ডাইমন্ড (সাদা) জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, রোমানা (পাকরি) জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায় এবং কার্ডিনাল ও অ্যাস্টরিক্স (লাল) জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৮০ টাকায়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, আলু সংরক্ষণের জন্য এ উপজেলায় ১০টি হিমাগার আছে। ওই হিমাগারগুলোতে কমপক্ষে ১৩ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। আলু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি এবার হিমাগারে ২৮ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন, যা থেকে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার বস্তা আলু বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। অবশিষ্ট আলু বিক্রি করবেন নাকি আরো কিছু দিন সংরক্ষণ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। হিমাগার মালিকরা জানান, হিমাগারগুলোতে বর্তমানে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। কৃষকদের একটি বড় অংশ হিমাগারে সংরক্ষিত আলু দিয়ে তাদের অনাগত দিনের বাজেট তৈরি করেন। তা দিয়ে নিত্যদিনের চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ফসল পরিচর্যা করা হয়। ফসলি জমির আগাছা দমনসহ সার ও ওষুধ প্রয়োগ করেন। সর্বোপরি আবারো নতুনভাবে আলু চাষের কর্মপরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য কৃষকরা হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বিক্রিতে ঝুঁকে পড়েছেন। আর ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। তাই বর্তমানে আলুর বাজার নি¤œমুখী। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষের দিকে বাজারে নতুন সবজির আমদানি হয়, ফলে আলুর চাহিদা কমে যায়। এর প্রভাবেই আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। তাদের ধারণা, আলুর দাম আর বাড়বে না বরং এ দরপতন অব্যাহত থাকবে। সালামিন ফুডস লিমিটেড হিমাগারের ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরী জানান, হিমাগারগুলোতে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি এবং ভাদ্র মাসের শেষের দিকে বাজারে নতুন সবজির আমদানির কারণে বর্তমানে আলুর বাজার নি¤œমুখী।

তবে তার ধারণা, আশি^ন মাসে আলুর বাজার আবার উঠতে পারে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj