কুটিরশিল্প কারিগরদের দুর্দিন

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আশাশুনি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প। বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর কদর বাড়ায় বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটিরশিল্পের কারিগরদের মাঝে নেমে এসেছে দুর্দিন। জানা যায়, বাঁশ ও বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত পরিবার বর্তমানে চরম দুর্দিনের মধ্যে দিনযাপন করছে। আশাশুনির শত শত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ ও বেত শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত শ্রমিক প্রায় বেকারত্ব জীবনযাপন করছেন। এ সব শ্রমিক বংশানুক্রমে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই গ্রাম বাংলার কুটিরশিল্প নিয়ে কবি সাহিত্যিক রচনা করেছেন কবিতা-গল্প। বাউলরা গেয়েছেন গান। আগে গ্রামের প্রায় বাড়িতেই বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করা হতো হরেক রকমের সরঞ্জাম। এক সময় সাতক্ষীরা জেলায় বাঁশের ব্যাপক চাষ করা হতো। সামান্য যতœ আর বিনা খরচে গড়ে উঠত বাঁশের বাগান। আর পুকুরের পাড়ে জন্ম নিত বেত। কিন্তু আজ-কালের বিবর্তনে সেই বাঁশ ও বেত বাগান বিলীন হতে চলেছে। তবুও থেমে নেই কারিগররা।

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা, বেউলা, শে^তপুর, কুন্দুড়িয়া গ্রামে, কুল্যা ইউনিয়নে কুল্যা, কাদাকাটি, কচুয়া গ্রামে কারিগররা বাঁশ ও বেত দিয়ে কুলা, ঢাকনা, চালুনি, মোড়া, চেয়ার, দোলনা, পাখা, ঘুনি, ডালা, ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করেন। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশর্^বর্তী জেলাতে বিক্রি করেন। কুটিরশিল্প কারিগররা জানান, পূর্ব পুরুষ থেকে এ পেশায় জড়িত রয়েছেন তারা। আগে এক একটি বাঁশ কিনতে হতো ৫০ থেকে ১২০ টাকা দরে। আর এখন প্রতিটি বাঁশ কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। এক সময় গ্রামীণ বাজারে বাঁশের তৈরি পণ্যের বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের কারণে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। সেই সঙ্গে তাদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে এখন। তারা আরো জানায়, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর সয়লাবের কারণে এখন এ অঞ্চলের বাঁশ ও বেত শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারিগরদের দাবি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা পেলে পুনরায় উজ্জীবিত হবে এ শিল্প।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj