শ্রীনগরে রাস্তা দখল করে গরুর খামার : স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : শ্রীনগরে এলজিইডির একটি সরকারি রাস্তা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক গরুর খামার। এই খামারগুলোর বর্জ্য অপসারণের জন্য এলজিইডির রাস্তা কেটে তৈরি করা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি রাস্তার ওপর গরুর বর্জ্য স্ত‚প করে রাখার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসী।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁও অবস্থিত নার্সিং ইনস্টিটিউটের কাছে খাল পাড়ের সরকারি পাকা রাস্তার ওপরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক গরুর খামার। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ির গরুর খামার থেকে বর্জ্য ফেলে একদিকে যেমন এলজিইডির পাকা রাস্তার ক্ষতি করা হচ্ছে, অপরদিকে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পাকা রাস্তাটির পাশেই একটি সরকারি গভীর নলক‚প রয়েছে। নলক‚পের চারদিকে বর্জ্যরে নোংরা ময়লা পানি জমে রয়েছে। ওই টিউবওয়েলের পানি পান করে গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

এছাড়া খামারিরা পাকা রাস্তা কেটে তাদের খামারের যাবতীয় ময়লা আবর্জনা নামাচ্ছে। আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই খামারের নোংরা পানি জমে রাস্তায় জনসাধারণের চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ওই রাস্তা দিয়ে পথচারীদের চলাচলে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এছাড়া জমে থাকা নোংরা পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি। এতে ছড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, কলেরা, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ। এ কারণে আশপাশের মানুষের চলাচলসহ বসবাস করা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এ বিষয়ে ওই এলাকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে রাবেয়া বেগম, আ. বাতেন, পাপিয়া রানী, যতীন্দ্র, নিরঞ্জন মণ্ডল, টুটুল মণ্ডল, কুদ্দুস খানসহ অনেকেই জানান, রাস্তার পাশে গরুর ফার্ম করে বর্জ্য অপসারণের জন্য ড্রেনেজ করা হলেও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ওই বর্জ্য স্ত‚প আকারে হয়ে থাকে।

এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে আমাদের এলাকাটি। তারা আরো বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে খামার মালিক ইদ্রীস খান (৬৫), কুদ্দুস খান (৬০) ও সিদ্দিক খান (৪৫) বলেন, এক সময় পরিস্থিতি এমন ছিল না। আমাদের জায়গার অভাব তাই রাস্তার পাশে খামার নির্মাণ করেছি, এতে সমস্যা কোথায়। রাস্তার পাশে বর্জ্য রাখায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এটা ঠিক তবে কি করব।

টিউবওয়েলের চারপাশে বর্জ্যরে নোংরা ময়লা পানি জমে থাকার বিষয়ে তারা বলেন, এই কলের পানি পান করতে আমাদেরও সমস্যা হয়। অনেকেই এই কারণে পানি পান করা ছেড়ে দিয়েছে। রাস্তা কেটে বর্জ্য ফেলানোর বিষয়ে বলেন, রাস্তাটি আমরা কাটিনি রাস্তা কেটেছে পাশের খামার মালিক আনন্দ ঘোষ (৪৫)। খামারি আনন্দ ঘোষ বলেন, এক সময় এখানে খাল ছিল। কিছু লোক খালে বালু ভরাট করে ফেলায় আমাদের এ সমস্যা হয়েছে। খাল থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতো না। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন (শাহাদাত) বলেন, বিষয়টি লোকজন আমাকে জানিয়েছে।

কিন্তু নানা জটিলতা থাকায় আমার পক্ষে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি রাস্তা কেটে কেউ নষ্ট করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসরিন সুলতানা বলেন, এটা পরিবেশ অধিদপ্তরের বিষয়, তারপরেও আমি নোটিস করেছিলাম তারা গ্রহণ করেননি।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বায়ো গ্যাস সিস্টেম ও পরিবেশ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো গরুর খামার বৈধ হতে পারে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কোনো কিছুই আমরা বরদাশত করব না। তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj