মাধবপুরে শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজীব দেব রায় রাজু, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে : মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষকরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ঘটনার নিষ্পত্তি হয়। গত মঙ্গলবার মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষকদের অভিযোগ, মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশে ১৪ সেপ্টেম্বর মাধবপুর প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী বিভিন্ন পদে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুর রহমানকে অফিসে ডেকে এনে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আখতারুল ইসলাম এবং দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিজয় কুমার আচার্যকে তার অফিসে অপমান করেন। নির্বাচন স্থগিতের পাঁয়তারা এবং দুই শিক্ষককে হেনস্তা করার সংবাদটি দুই শিক্ষক উপজেলা পাইলট স্কুলে সভা চলাকালে জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উপস্থিত অর্ধশতাধিক শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার অফিস ঘেরাও দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শিক্ষকরা জানান, নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচন করার জন্য তাদের উৎসাহিত করেন। কিন্তু প্রার্থীরা প্রচার শেষ করে নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিতের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং দুজন শিক্ষককে অপমানিত করার করায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছিদ্দিকুর রহমান জানান, শিক্ষকদের নির্বাচন এ ধরনের নিয়মের মধ্যে পড়ে না।

কিন্তু মাধবপুরের শিক্ষকরা কয়েকভাবে বিভক্ত। শিক্ষকদের বিভক্তি কমিয়ে আনার জন্য এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। তবে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পাঠদান থেকে বিরত থেকে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আসছিল। এ কারণে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে নির্বাচন স্থগিত করা যায় কিনা বিষয়টি ভাবা হয়েছিল। এরই মধ্যে শিক্ষকরা ভুলবুঝে আমার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে। সে জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করি। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে সভায় জানান, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষকদের এ ধরনের নির্বাচন দেয়া ঠিক হয়নি। যেহেতু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়ে গেছে সেহেতু ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj