রকমারি : সমুদ্রের পানি শুকিয়ে যায় না কেন?

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাধারণত গ্রীষ্মকালে বাষ্পীভবনের ফলে পুকুর, ডোবা, হ্রদ প্রভৃতির পানি শুকিয়ে যায়। সমুদ্রের বুকেও এই বাষ্পীভবন ক্রিয়া চলে। কিন্তু তবুও সমুদ্রের পানি শুকিয়ে যায় না। কিন্তু আমরা কি জানি- কেন এ রকম হয়?

সমুদ্র হলো পানির বিশাল এক ভাণ্ডার। লাখ লাখ ঘন মিটার পানি প্রতি বছর সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। তারপর বাষ্পীভূত পানি মেঘের আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীতে নেমে আসে। বৃষ্টির পানি তখন নদী-নালা কর্তৃক বাহিত হয়ে সমুদ্রে এসে পতিত হয়। আর এ জন্যই বাষ্পীভবন হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্র সমতল একই রকম থাকে- অর্থাৎ উঁচুতে কিংবা নিচুতে নেমে যায় না। এই আবর্তন চক্র চিরন্তন। সমুদ্রের পানি সমতলকে এ স্থির রাখতে সাহায্য করে।

সমুদ্রের পানির পরিমাণের তুলনায় হ্রদ, পুকুর, ডোবা প্রভৃতিতে পানির পরিমাণ নিতান্তই কম। সুতরাং গ্রীষ্মকালে অনেক হ্রদ, পুকুর, ডোবা একেবারেই শুকিয়ে যায়। অন্যদিকে যে পরিমাণ পানি সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হয়ে উপরে যায়, সে পরিমাণ সমুদ্র পেয়ে যায় নদী থেকে। নদী আবার সে পানি পায় বৃষ্টি কিংবা পাহাড়ের বরফ গলা পানি থেকে। বৃষ্টির পানি মাটি কর্তৃক শোষিত হয়। সে পানিও সমুদ্রে পতিত হয় ছোট ছোট জলধারা আকারে।

মানবজাতির জন্য পানির এই আবর্তন চক্র অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বৃষ্টির পানি ভূমিকে ভিজে ভিজে রাখে। ভিজে ভিজে এই মাটি গাছপালা, শস্যাদি উৎপাদনে সাহায্য করে। নদীর পানিকে খাল কেটে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ক্ষেত খামারের কাজেও ব্যবহার করা হয়। পানির এই আবর্তনচক্র ব্যতিরেকে পৃথিবীতে, বোধকরি, জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না।

গ্রন্থনা : ইমরুল ইউসুফ

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj