রিজার্ভের অর্থ চুরি : মার্কিন আদালতে দ্রুত মামলার নির্দেশ

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই রিজার্ভ হ্যাকের বিষয়ে জড়িত কোরিয়ান নাগরিক শনাক্ত করার পর গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এক হ্যাকারের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করে এফবিআই। এ ঘটনায় বাংলাদেশের চুরি যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সরকার। যদিও এর আগে ফিলিপাইনের আদালতে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার স্ট্রিট শাখার সাবেক ম্যানেজার মায়া দেগুইতোর বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ আশাবাদী হয়।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরের কাগজকে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা হতে পারে। গভর্নরের নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলা হলে শিগগিরই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার করে ফেরত আনা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, গত ৫ জুলাই ফিলিপাইনের আদালতে যে তথ্য উপাত্ত দেয়া হয়েছে, সেখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ এফবিআইয়ের তদন্তেও হ্যাকিং প্রমাণিত হয়েছে। এফবিআই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। ফলে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনা আরো বাড়ল। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের অর্থ চুরি হয়েছিল, এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইও এ ঘটনার তদন্ত করছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পার্ক জিন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ ছাড়াও ২০১৭ সালে বিশ্ব¦জুড়ে যে সাইবার হামলা হয়েছিল সেটি তাদের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালে সনি করপোরেশনের ওপর সাইবার হামলার পেছনেও তারা ছিল। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাইবার হামলার পেছনেও এ চক্র জড়িত। পার্ক জিন ল্যাজারাস গ্রুপ নামে পরিচিত। গ্রুপটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন করপোরেশনকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু সফল হতে পারেনি। পার্ক জিনের গ্রুপের সাইবার হামলায় ব্রিটেনের একটি কোম্পানি অচল হয়ে পড়েছিল।

প্রসঙ্গত, ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিট্যান্স কোম্পানির কাছে আছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলমান। সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে গিয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। আর কিম অং ক্যাসিনোতে যাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ফেরত আনা গেছে। তবে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলার কোথায় গেছে তা চিহ্নিত করা যায়নি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj