ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভা : নির্বাচনের আগেই সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের দাবি

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘নির্বাচনকালে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনের সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

বিচারপতি নিজামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োজক সংগঠনের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারমান কাজী রিয়াজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচন সবার জন্য, উৎসব হলেও দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে এটা আতঙ্কের। প্রতি নির্বাচনের আগেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। আইন না থাকায় এবারও একই ধরনের ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির অবসান করতে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ণ করা দরকার।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, দেশে আগে রাষ্ট্রীয় মদদে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হলেও এখন হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে কারো ওপর অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে

না। ব্রাহ্মবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলবাদীরা একজোট হয়ে পরিকল্পিত উপায়ে ঠিকই ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে এ বিষয়ে মামলা হয়। কিন্তু ঘটনা ঘটার আগে প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। সরকার যদি আগ থেকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিত তাহলে আজকে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হতো না। এ সরকারকে ক্ষমতায় আনার পেছনে আমরা প্রাণপাত করেছি। অথচ সরকার এ বিষয়ে আমাদের কোনো দাবিই মানেনি। এ কারণেই ২০০১ সালের ঘটনায় তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট আজো প্রকাশ করা হয়নি।

শাহারিয়ার কবির বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নির্বাচন উৎসব নয়, আতঙ্কের বিষয়। এই বিষয়ে এখন আইনের প্রয়োজন। ভারত, নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন আছে। আমাদের দেশে এই আইন থাকলে সংখ্যালঘুদের কেউ নির্যাতন করার সাহস পেত না।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj