নির্বাচন নিয়ে সব পক্ষেরই ভেতর বাইরের হিসাব-নিকাশ চলছে

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর চার মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এ মাস শেষে কিংবা অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু করবে। বিষয়টি সবারই জানা। সেভাবে সব পক্ষই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। দেশে চলছে রাজনীতিতে নতুন নতুন জোট গঠন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, আবার নির্বাচনী জোট গঠনের সমীকরণও। আপাতত আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে গেছে, উত্তরবঙ্গে ট্রেনযোগে প্রচারণা শেষ, গোটা মাসই তাদের প্রচারণা সড়ক, রেল ও স্টিমারযোগে চলবে। বিএনপি সেভাবে না নামলেও প্রেসক্লাব, দলীয় সংসদ সংবাদ সম্মেলন মিলিয়ে তাদের বক্তব্য মিডিয়ার মাধ্যমে চলছে। বিএনপি অবশ্য দলীয় চেয়ারপারসন বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের অভাবে এখনো কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আছে। নেতাদের একাংশ বলছেন দলীয় প্রধানের মুক্তি ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না, অন্য অংশ বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনোটারই লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ফলে কর্মী-সমর্থকরা হতাশায় ভুগছেন নির্বাচন নিয়ে আসলে কী হবে বিএনপির ভূমিকা নির্বাচন বর্জন, নাকি প্রতিহত করা- এ নিয়ে দ্বিধাদ্ব›েদ্ব দলের ওপর-নিচের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। দলের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে কে কার সিদ্ধান্ত মেনে নেবে সেটি একটি মৌলিক সমস্যা। নেতৃত্বের কেউই তেমন ঝুঁকি নিতে চাইছেন বলে মনে হয় না। ফলে মহাসচিবসহ অন্য নেতারা মিডিয়ার সম্মুখে কিছু গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে চলে যান। কিন্তু ভেতরের সিদ্ধান্ত কারোরই জানা নেই। অথচ নির্বাচনের সময় তো ঘড়ির কাঁটার মতো টিকটিক করে ঘনিয়ে আসছে। আন্দোলন করলে কর্মসূচি কোথায়? রাতারাতি আন্দোলন তুঙ্গে তোলা যায় না। তুঙ্গে তুলতে না পারলে আন্দোলনই শুধু মাঠে মার খাবে না, দলও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখে পড়বে। আপাতত নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেই চলছে। নতুন করে খালেদা জিয়ার কারাগার স্থানান্তর এবং শারীরিক অবস্থার বিষয়টি মাঠে এনে উত্তপ্ত করার একটা চেষ্টা চলছে। বিএনপির আইনজীবীরা এ নিয়ে কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, বিএনপিও অনশন কর্মসূচির কথা বলেছে। কিন্তু এসব কর্মসূচি নিয়ে খুব বেশি উৎসব-উদ্দীপনা তৃণমূলের কর্মীরা পাচ্ছেন বলে মনে হয় না।

তবে বিএনপির ভেতরে ভিন্ন ধরনের চিন্তারও কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সেটি হচ্ছে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের’ নামে যুক্তফ্রন্টসহ নাম ও নেতাসর্বস্ব দলগুলোকে সম্মুখে বা পাশে রেখে যুগপৎ কোনো আন্দোলন সংঘটিত করা যায় কিনা, সেটি কিছুটা হলে ও সম্ভব হলে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া। নেপথ্যে আর একটি চিন্তার কথাও কানে আসছে। সেটি হচ্ছে- ড. কামাল হোসেন, ডা. বি চৌধুরীদের নিয়ে মালয়েশিয়ার মতো একটি নির্বাচনী আঁতাত করা- তাতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আড়াই বছর একটি সরকার থাকবে, বাকি আড়াই বছর মুক্ত খালেদা জিয়া ও মুক্ত তারেক রহমানকে দিয়ে আর একটি সরকার গঠন করা। প্রথম সরকার বিদেশি মহলকে আস্থায় আনতে ভূমিকা রাখবে, ভেতরে ভেতরে বিএনপি মামলা ও নির্বাসন মুক্তি ঘটিয়ে নেতৃত্বকে সরকারের দায়িত্বে বসানোর কাজ করবে। এসব ফর্মুলা শুনতে চমকপ্রদ মনে হলেও বাস্তবে কতটা হালে পানি পাবে তা বলা কঠিন। মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব আকাশ-পাতাল। সুতরাং মালয়েশিয়ার ফর্মুলা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা মোটেও সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। তা ছাড়া ড. কামাল হোসেন বা ডা. বি চৌধুরী এবং তাদের জোটের নেতারা দুই আড়াই বছর বিএনপির ওপর ভর করে কোনো সরকার নির্বিঘ্ন পরিচালিত করতে পারবেন- সেটি এ দেশের কোনো শিশুও বিশ^াস করবে না। এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা নেতাকর্মীরা সুবোধ বালক-বালিকার মতো দুই আড়াই বছর শান্ত থাকবে তেমন ভদ্র নেতাকর্মী বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলেই নেই, বিএনপি-জামায়াতে তো নেই-ই। সুতরাং এসব তত্ত্ব বেশ আজগুবিই শুধু নয়, রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্যও বিপদ ডেকে আনবে- সেটি নিশ্চিত করেই বলা যায়।

বাংলাদেশে জামায়াত এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা এ মুহূর্তে বেশ চুপচাপ মনে হলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার মানসিক স্পৃহা তাদের কেউ দমন করতে পারবে- সেটি বিশ্বাস করার কারণ নেই। বিশেষত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয় নিয়ে জামায়াতই শুধু নয়, বিএনপির একটি অংশও সুযোগের অপেক্ষায় আছে। বিষয়টি সবাই কমবেশি জানেন। সুতরাং জামায়াত-বিএনপিকে নিয়ে ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরীদের কোনো ঐক্য তেমন ফর্মুলায় গড়ালে নানা আলোচনা-সমালোচনা সম্মুখে আসবেই। তেমন পরিস্থিতির দায় এসব নেতা কতটা নিতে পারবেন- সেই প্রশ্নও চলে আসবে। তা ছাড়া জামায়াতকে নিয়ে সে ধরনের ঐক্য নির্বাচন ও সরকার গঠন কতটা ফলপ্রসূ হবে- সেটি খুব নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। সুতরাং নেপথ্যের সেই আলোচনা আদতেই বাসা বাঁধতে পারবে কিনা, সূর্যের আলো দেখবে কিনা- তা নিকট ভবিষ্যৎই কেবল বলে দেবে। তবে বিএনপি যে সিদ্ধান্তহীনতার মহাসংকটে আছে সেটি স্পষ্ট। সে কারণেই কোনো কিছু নিয়েই বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে না। বড় দলের সমস্যা বহুমুখী শ্যাম রাখি, নাকি কুল রাখি- সেই দোটানায় কিছুই নেয়া সম্ভব হবে না। তবে বিএনপির বর্তমান মহাসচিবসহ অন্য নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে এক ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েই যাচ্ছে, সরকারের ‘অবস্থান’ স্পষ্ট করতে কখনো কখনো দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেরি করছে, দলের দিক থেকেও তেমনটিই বেশি ঘটতে দেখা যাচ্ছে। সুযোগটি বিএনপি কমবেশি কাজে লাগাচ্ছে। নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হচ্ছে, পুরনো ইস্যু আড়ালে চলে যাচ্ছে। সময়ও গড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে এককভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছে। বিএনপি এখনো খালেদা জিয়ার মুক্তি, আদালত স্থানান্তর, নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি ঢাকায় বসে করছে, আবার নির্বাচনের জস্য দলের প্রস্তুতি আছে বলেও সব মহলকে আশ^স্ত করছে। বিষয়টি অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে তেমন সাজ সাজ অবস্থা দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই ঢাকায় অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। কেননা বিএনপি যদি পুরনো জোটগতভাবে নির্বাচন করে তাহলেও আসনের হিসাব-নিকাশ কী হবে- সেটি কারো কারো কাছে স্পষ্ট নয়। আবার বৃহত্তর ঐক্য গঠিত হলে বিএনপি বড় ধরনের ছাড় দেবে সেটিও অনেকের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কার ভাগ্যে কী নির্ধারিত হবে- সেটি তখন বোঝা যাবে। সেই আশঙ্কা থেকে অনেকেই মাঠে খুব একটা নেই, ঢাকায় ঘোরাফেরা করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অবস্থা কী তা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় যেসব খবরাখবর প্রকাশিত হচ্ছে- তা কোনো নেতাই যথার্থ বলে স্বীকার করছেন না। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনে রেখেছেন। বিএনপির অবস্থা বুঝেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। বিএনপি এককভাবে নয়, কমপক্ষে ২০ দলীয় ঐক্য জোটের ব্যানারে নির্বাচনে আসবে- সেটি আওয়ামী লীগ ধরেই নিচ্ছে। বিএনপি জোট সম্প্রসারণ করে যুক্তফ্রন্টকে কতটা কাছে ভেড়াতে পারবে- সেটি দেখার অপেক্ষা করছে। তেমন কিছু ঘটলে আওয়ামী লীগেরও মনোনয়ন তালিকা অন্যরকম হতে পারে। এমনিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে আছেন, তাতে হার-জিতের মনোভাব তার মধ্যে রয়েছে। তিনি আসনসমূহ থেকে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন নেতাদেরই এবার মনোনয়ন দিতে বেশি আগ্রহী- সে কথা তিনি বলেছেনও। সে কারণে আওয়ামী লীগের অনেক এমপি বেশ নার্ভাস অবস্থায় আছেন। তাদের আমলনামা নেত্রীর হাতে রয়েছে- যা অন্য কেউ জানছে না- এমন কথাও বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি যে দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারীদের এবার মনোনয়ন দেবেন না- সে কথা তিনি কয়েকবারই বলেছেন। সে কারণে অনেকেই বেশ চাপে আছেন। আবার স্থানীয় পর্যায়ে অনেককেই মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে দেখা যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়া দোষের নয়। তবে সেটি যেন শেষ পর্যন্ত দলাদলিতে পরিণত না হয়, নির্বাচনের মাঠে বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে সে জন্য ক’দিন আগে দল থেকে সতর্কও করা হয়েছে। এ মুহূর্তে প্রচার অভিযানে বিভিন্ন আসনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ শক্তি প্রদর্শনেরও চেষ্টা করছেন, সেভাবে কর্মীদের জড়ো হয়েছেন- তেমনটি লক্ষ করা যাচ্ছে।

তবে রাজনীতির বিশ্লেষকদের মত হচ্ছে, কোন আসনে কোন প্রার্থীর ভাবমূর্তি ইতিবাচক সেটি খুব নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা, বিএনপি বা প্রতিপক্ষের প্রতিদ্ব›দ্বী সম্ভাব্য প্রার্থী কে কে হতে পারেন, তাদের কার বিরুদ্ধে কাকে মনোনয়ন দিলে জিতিয়ে আনা সহজ হবে সেই চিত্র স্পষ্ট করা। অন্য আর একটি বিষয় আওয়ামী লীগকে মনে রাখতে হবে, এক বা দুই উপজেলা বা উপজেলাংশ নিয়ে যেসব আসন রয়েছে সেখানে আঞ্চলিকতার প্রভাব বিস্তারের কোনো কারণ রয়েছে কিনা সেটি নজরে রাখা, সে ক্ষেত্রে ভোটারের মনোভাব বুঝে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া। অতীতে এমন কিছু আসনে আওয়ামী লীগ যোগ্য বিবেচনা করে অপেক্ষাকৃত ছোট উপজেলার প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, প্রতিপক্ষ ভোটারদের সেন্টিমেন্টকে বিবেচনায় নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে লাভবান হয়েছে। সেই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের মনোভাব বুঝতে পারেনি। এর পরিণতি আওয়ামী লীগের জন্য ভালো হয়নি। এবার কোনো কোনো আসন থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। জানি না বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাবে। তবে বিএনপিসহ অন্যান্য দল এক প্লাটফর্মে যুক্ত হলে সংকট সেখানেও তৈরি হবে, মহাজোটে জাতীয় পার্টিকে নিয়েও তৈরি হবে। এরশাদের জাপা উত্তরাঞ্চলের সর্বত্র এখন কতটা জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছে- সেটি নতুন প্রশ্ন। তবে ঢাকা বা অন্যত্র এরশাদের অবস্থান এখন আর সেভাবে নেই। যদিও তিনি ৩০০ আসন নিয়ে দর কষাকষির একটি বিপজ্জনক অবস্থান নিতে পারেন বলে সবাই আশঙ্কা করছেন। ১৪ দলের অন্য দলগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগের খুব বড় ধরনের, সমস্যা নেই। কিন্তু জাতীয় পার্টির ওপর নির্ভর করার বাস্তবতা খুবই কম। বিএনপি ভেতরে ভেতরে জাপাকে হাতে নিতে তৎপর কিনা- জাপা বেশি আসনের লোভে উল্টে গেলে আশ্চার্যান্বিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

অন্যদিকে ৮ বাম দল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান বেশ কমে গেছে। অথচ এখানে দু-চারজন নেতা ছিলেন যারা সুযোগ পেলে হয়তো কিছুটা অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু সেটি বোধ হয় তারাও চান না। তবে সবার দৃষ্টি এখন বিএনপির দিকে। দলটি কি নির্বাচন শেষ পর্যন্ত বর্জন করে কিনা? কেননা দলের নেতা লন্ডন থেকে সে রকম হুকুম দিলে অন্যদের কিছুই করার থাকবে না। ক্ষমতায় না যেতে পারার সম্ভাবনা দেখা দিলে মূল নেতা তেমন সিদ্ধান্ত দিতেও পারেন। সবকিছু মিলিয়ে নানা অনিশ্চয়তা বিএনপিকে ঘিরে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে। আবার আচমকা কিছু একটা সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাবে না। মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে এখন সবচেয়ে সক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। ড. কামাল হোসেন জামায়াত ছাড়া বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের স্বপ্ন দেখেন। বিএনপি জামায়াতের ভোট ছেড়ে কামাল হোসেনের হাতে ভোটের বাক্স তুলে দেবেন- সেটি ভাবা কষ্টকর। সবকিছু মিলিয়ে নানা সমীকরণ, মেরুকরণ, ভাঙাগড়া, ষড়যন্ত্রের ফাঁদ ইত্যাদি কৃত্রিমভাবেই ঘটতে যাচ্ছে। এর সুফলের চাইতে রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি থাকে। দরকার আদর্শের রাজনীতি ও আদর্শের নির্বাচন- তাহলেই গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj