মির্জা ফখরুল : খালেদার মুক্তি হলে বোঝা যাবে নির্বাচন চায় সরকার

মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করতে পারে বলে ফের ইঙ্গিত দিল বিএনপি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলেই বোঝা যাবে যে, এ সরকার দেশে নির্বাচন চায়।

গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা সরকারের কাছে খালেদার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসূচি চলে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতারা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।

নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির দাবিগুলো আবারো তুলে ধরে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ দেশের জনগণের কাছে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি দেশনেত্রী কারাগারে থাকেন। তা ছাড়া তফসিল ঘোষণার আগেই এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং সংসদ ভেঙে দিতে হবে। আমরা বলেছি একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। তাই আগামী নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সারা দেশের মানুষের মতো সারাবিশ্বও বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হবে। তাকে মুক্ত করে গণতন্ত্রের লড়াই এগিয়ে নিয়ে, সব দাবি আদায় করে তবেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি।

মানববন্ধন শেষে বিএনপির ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj