ফার্স্ট ম্যান-চন্দ্রে মানবকাহন

শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মুহাম্মাদ আলতামিশ নাবিল : মার্কিন নভোচারী ও বৈমানিক নিল আর্মস্ট্রং কি আদৌ চাঁদে প্রথম মানব হিসেবে পা রেখেছিলেন, নাকি তার পুরোটাই ছিল নাসার সাজানো নাটক। সেই ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা বিতর্কে ঘি না ঢেলে আসল কথায় আসা যাক। সম্প্রতি মুক্তির জন্য হলিউডে নির্মিত হয়েছে বায়োপিক চলচ্চিত্র ‘ফার্স্ট ম্যান’ যেটি মূলত নিল আর্মস্ট্রংয়ের ব্যক্তিজীবনের ওপর নির্মিত। জেমস আর হ্যানসেনের লেখা আর্মস্ট্রংয়ের একমাত্র স্বীকৃত আত্মজীবনী ‘ফার্স্ট ম্যান- দ্য লাইফ অফ নিল এ আর্মস্ট্রং’ থেকে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এর পরিচালনায় ছিলেন হুইপল্যাশ ও লা লা ল্যান্ড খ্যাত ড্যামিয়েন শ্যাজেল। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে এবারো তিনি ভরসা রেখেছেন রায়ান গসলিংয়ের ওপর।

ব্যক্তিজীবনে কেমন ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং? তার জীবনীগ্রন্থটি লেখার সময় লেখক হ্যানসেন জানিয়েছিলেন, সাধারণের মধ্যে অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন নিল। অর্থবিত্ত খুব একট টানেনি তাকে। টিভি কিংবা মিডিয়ার সাক্ষাৎকারেও তাকে খুব একটা দেখা যেত না। কারণ তিনি সবসময় ভাবতেন, চাঁদে প্রথম মানব হিসেবে পা দেয়ার কৃতিত্ব, গৌরব কোনোটাই তার একার না। বরঞ্চ কৃতিত্বটি তার পুরো দলের। চাঁদের এই অভিযানের কৃতিত্ব নিজে একার বলে দাবি করেননি কখনো, এ জন্য মানুষ তাকে আরো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া আর্মস্ট্রং বংশানুক্রমিকভাবে স্কটিশ ও জার্মান। ১৯৩৬ সালে বাবার সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড ন্যাশনাল এয়ার রেস দেখতে গিয়ে নভোযানের প্রতি প্রথম অনুরক্ততা শুরু হয়। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ১৬ বছর বয়সে গাড়ি চালাবার লাইসেন্স পাওয়ার আগে ক্ষুদে বিমান চালাবার অনুমতিপত্র পান তিনি। ২৬ বছর বয়সে নিল আর্মস্ট্রং বিয়ে করেছিলেন জেনেট এলিজাবেথ শ্যারনকে। বিয়ের পর দুজনে ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করতে শুরু করেন। আর সেখানেই তিনি মার্কিন মহাকাশ মিশনের পাইলট হিসেবে যোগ দেন। সেই ক্যারিয়ারে রয়েছে তার, শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে রকেট প্লেন চালানোর রেকর্ড। বর্ণাঢ্য এ চাকরি জীবনে তিনি কোরীয় যুদ্ধেও অংশ নেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ঘটান চাঁদে প্রথম মানব হিসেবে পা রাখার ইতিহাস। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ওহাইওর সিনসিনাটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই ঐতিহাসিক মানব।

একটা তথ্য বোধহয় অনেক পাঠকেরই অজানা, ১৯৬৯ সালের ২৭ অক্টোবর বিকেলে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন ঢাকা এয়ারপোর্টে অবতরণ করে চন্দ্র বিজয়ীদের বহনকারী বিমান। ভারতের মুম্বাই থেকে এসে সেই সময় তেজগাঁও বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের ভিআইপি লাউঞ্জে সামান্য সময় অবস্থান করেন এই তিন নভোচারীরা। আর এদের সঙ্গে ছিলেন তাদের স্ত্রী। একঝাঁক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তাদের মোটর শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তবে এ তথ্য চলচ্চিত্রটিতে উল্লেখ পাওয়ার কোনোরূপ সম্ভাবনাই নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি মুক্তি পাবে আসছে অক্টোবরে। এর মধ্যে ছবিটি নিয়ে মার্কিনজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চাঁদে প্রথমবার অবতরণের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্র্রের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল কিন্তু

ছবিটিতে সেটা দেখানো হয়নি কেন তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ তুলে পরিচালক ও অভিনেতাকে বামপন্থী বলেও টুইট করেছেন কেউ কেউ। তবে এই বিতর্ক চলচ্চিত্রটির কোনো পাবলিসিটি স্ট্যান্ড কিনা তা জানা যায়নি।

ছবিতে রয়েছে নিলের ব্যক্তিজীবন, প্রথম অ্যাপোলো মানব মিশনে ইডি হোয়াইটয়ের দলের অকাল মৃত্যুসহ আরো নানান দিক। ছবিটি ফিল্ম রিভিউভিত্তিক ওয়েবসাইট রটেনটমেটোসে ৮৮ শতাংশ রেটিং বহন করছে। গত আগস্টে ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের থেকে ইতিবাচক সমালোচনা আদায় করে। ধারণা করা হচ্ছে ফার্স্ট ম্যান ব্যবসাসফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসছে অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবেও শক্ত অবস্থান করে নিতে পারে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj