এমবিএ এখন সময়ের চাহিদা

বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এমবিএ হলো মাস্টার্স অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন। বাণিজ্য অনুষদের অধীনে এমবিএ পড়ানো হলেও এটি মূলত মাল্টিডিসিপ্লিনারি একটি কোর্স। ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই পড়ানো হয় এতে। যে বিষয়গুলোয় এমবিএ করা যায় তার মধ্যে আছে ফিন্যান্স, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, বিপণন, ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও হোটেল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে সাধারণত একটি বিষয়কে প্রধান হিসেবে বেছে নিতে হয়। প্রধান কোর্সটিকে প্রাধান্য দিয়ে পড়ানো হয় আরো নানা বিষয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) কেন্টিনে বসে সিনথিয়া বলছিলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির আকার দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। সে সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে বহির্বিশ্বের সঙ্গে। গতি এসেছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে। ফলে চাহিদা বেড়েছে ব্যবসা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত পড়াশোনার। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চিন্তা করলাম ক্যারিয়ার তৈরির জন্য এমবিএ করাটা জরুরি। তাই ভর্তি হলাম আইবিএতে।’

কোথায় পড়বেন : সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া রয়েছে কিছু ইনস্টিটিউট, যেখানে এমবিএ পড়া যায়। শুধু নিয়মিত শিক্ষার্থীই নন, চাকরিজীবীরাও এমবিএ করতে পারেন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। তবে এমবিএ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। এমনকি দূরশিক্ষণের মাধ্যমেও আপনি এমবিএ করতে পারেন।

এমবিএর ধরন : সাধারণত এমবিএ পড়ার জন্য দুই ধরনের প্রোগ্রাম আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। একটি হলো রেগুলার এমবিএ আর অন্যটি এক্সিকিউটিভ এমবিএ। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য রেগুলার এমবিএ ও চাকরিজীবীদের কথা চিন্তা করে এক্সিকিউটিভ এমবিএর কোর্স ডিজাইন করা হয়। তবে যে কোনো ধরনের এমবিএই আপনি করতে পারেন আপনার প্রয়োজন বা ইচ্ছা অনুযায়ী।

রেগুলার এমবিএতে কমপক্ষে ৬০ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। কোথাও আবার এর সঙ্গে অতিরিক্ত তিন ক্রেডিট নিতে হয় ইন্টার্নশিপের জন্য। আর এ জন্য কত সময় নেবেন তা আপনি নির্ধারণ করতে পারেন। তবে সাধারণত এটি দুই বছর মেয়াদি কোর্স। এ ছাড়া ৪৫ থেকে ৫০ ক্রেডিটে সম্পন্ন করতে হয় এক্সিকিউটিভ এমবিএর ক্ষেত্রে। যেখানে সময় লাগে দেড় থেকে দুই বছর। তবে কেউ ইচ্ছা করলে স্বল্প সময়ে বেশি কোর্স পড়ে কম সময়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ সম্পন্ন করতে পারেন।

পড়ার যোগ্যতা : বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমবিএর জন্য বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতা চাওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ কোর্সে ভর্তি হতে হলে স্নাতক শেষ করে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। আর এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য যে কোনো বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশনের পাশাপাশি দরকার তিন বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধীনেও এমবিএ পড়ানো হয়। যারা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বিবিএ করেছেন, তারা সরাসরি ভর্তি হতে পারেন এমবিএতে। আর যারা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসেছেন, তাদের জন্য ইভিনিং প্রোগ্রামে এমবিএ করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও আইবিএ ও বাণিজ্য অনুষদের অধীনে এমবিএ করানো হয়।

এখানেও ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীকে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। তবে এখানে যে কেউ ভর্তি হতে পারবেন না, শুধু বাণিজ্যে স্নাতক শিক্ষার্থীরা এমবিএ করার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারবেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থসাউথে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করতে হলে তিন বছরের ব্যাচেলর ও পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আর রেগুলার এমবিএতে স্নাতক শেষ করে যে কেউ ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হতে পারেন। এ ছাড়া ব্র্যাক, ইস্ট-ওয়েস্ট, ইনডিপেনডেন্ট, ইউনাইটেড ও এআইইউবিতে এমবিএ করার জন্য একই ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন।

কর্মক্ষেত্রে সুযোগ : বর্তমান চাকরির বাজারে চাহিদার শীর্ষে রয়েছেন বিবিএ ও এমবিএ গ্র্যাজুয়েটরা।

বিশেষ করে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এমবিএ গ্র্যাজুয়েটদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। আর ব্যাংক, বিমা, লিজিং ফার্মসহ নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে তাদের একচেটিয়া প্রাধান্য।

এ ছাড়া টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরেও অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এমবিএ গ্র্যাজুয়েটরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে এমবিএ করছেন রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, সমাজবিজ্ঞানে অনার্স শেষে এখানে ভর্তি হয়েছি। আমি জানি সমাজের গতি-প্রকৃতি ও মানুষের চিন্তাধারা। পাশাপাশি যে কোনো ক্ষেত্রেই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সবার সঙ্গে যোগাযোগ। বিশেষ করে একটি পণ্যকে বিপণন বা একটি ধারণাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে যোগাযোগের বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আমি এমবিএতে ভর্তি হয়েছি।

যোগাযোগ : যোগাযোগের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে আলাদা ওয়েবসাইট। এমবিএ ভর্তি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য আপনি সহজেই পেতে পারেন সেখান থেকে। ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো যথাক্রমে িি.িরনধ-ফঁ.বফঁ ও িি.িরনধ-লঁ.বফঁ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ছয়টি বিভাগের জন্য রয়েছে আলাদা ওয়েরসাইট। এ ছাড়া িি.িলঁহরা.বফঁ ও িি.িহংঁ.বফঁ ঠিকানায় যথাক্রমে জাহাঙ্গীরনগর ও নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএতে ভর্তির যাবতীয় তথ্য পাবেন আপনি।

এ ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এমবিএ করার সুযোগ আছে।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj