পর্বত জয়ী মৃদুলা : সেবিকা দেবনাথ

সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাদা পাহাড়ের প্রতি মৃদুলার দুর্বলতা সেই ছোটবেলা থেকেই। স্বপ্ন দেখতেন পাহাড়ের চূড়ায় তিনি ওড়াবেন লাল-সবুজের পতাকা। সেই স্বপ্নটা এক সময় সত্যি হয়ে ধরা দেয় তার কাছে। তবে এর জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়েছে মৃদুলাকে। নিতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রমের প্রশিক্ষণ। সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি পর্বতারোহী হিসেবে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত কিলিমাঞ্জেরো জয় করেন মৃদুলা। এ বছরই ২৭ আগস্ট ভারতের ইউনাম চূড়ায় উড়ান বাংলাদেশের পতাকা। এর আগে ২০১৭ সালে সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি পর্বতারোহী হিসেবে এভারেস্টের ২২ হাজার ফুট উঁচুতে উঠেন।

পুরো নাম মৃদুলা আমাতুন নূর। জন্ম ১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকায়। তবে তার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। বাবা মো. আবু হেনা ও মা ফরিদা আখতার দুজনই চাকরিজীবী। এডভেঞ্চার প্রিয় মৃদুলা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরে মিলিটারি প্রশিক্ষণ নেন টানা দুই বছর। উদ্দেশ্য ফিটনেসের। যে প্রশিক্ষণে অনেকেই হাল ছেড়ে দেয় সেখানে ‘সিন্সিয়ার ক্যাডেট’ উপাধি পান মৃদুলা। এই সাফল্যে তার বাহুতে ব্যাজ পরিয়ে দেন ক্যাডেট সারজেন্ট।

নিজের সম্পর্কে জানতে চাইলে মৃদুলা বলেন, আমার ছোটবেলা কেটেছে মূলত নানা-নানির কাছে। নানা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নানার কাছে অনেক অনুপ্রেরণার গল্প শুনতাম। বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক বাস্তববাদী। একটু চুপচাপ স্বভাবের ছিলাম। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়তাম। বাবা-মা সব সময়ই চাইতো আমি যেন বেস্ট রেজাল্ট করি। এটা এক ধরনের চাপ ছিল আমরা ওপর। তাদের খুব একটা নিরাশ হতে হয়নি।

পাহাড় জয়ের নেশা কবে থেকে শুরু হলো জানতে চাইলে মৃদুলা বলেন, ২০১১ ও ২০১২ সালে নেপাল ও ভারত যাওয়ার পর পাহাড়ের প্রতি আমার সেই পুরনো প্রেম আবারো যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আমার কিছু বন্ধুবান্ধব আছে যারা সব সময় আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। ২০১৬ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ি মাউন্টেইনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মানালিতে সুজোগ পাই বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স করার। আমি যেহেতু এক্স ক্যাডেট ছিলাম এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় টিকে যাই- এ জন্য অনেক পর্বতারোহী আমাকে ডাক্তার সাব ডাকা শুরু করল। এক্স ক্যাডেট হওয়ায় ইন্ডিয়ান ডিফেন্স মাউন্টেনিয়ারদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ হয় এবং ওরা আমাকে বেশ ভালোবাসত।

কার অনুপ্রেরণায় এতদূর এলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার প্রশিক্ষকরাই। যারা আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমাকে চিনিয়েছেন। এমনও দেখেছি অন্ধ মানুষ, বিকলাঙ্গ মানুষেরও পর্বতারোহণে অনেক আগ্রহ। প্রশিক্ষকরা তাদের পিঠে করে শেখাচ্ছেন। তা দেখে আমার বুকে ধাক্কা লাগে। তখনই উপলব্ধি হয় যে, স্বপ্ন আসলে দেখে নয়, স্বপ্ন বাস্তব করতে কাজ করতে হয়। পরিশ্রম করতে হয়। নিজের কী নেই তা নিয়ে হাহুতাশ না করে যা আছে তা নিয়েই লেগে পড়তে হয়। আমার জীবনে এমনও শিক্ষক আছেন যিনি ক্যান্সারের যঙ্গে যুদ্ধ করে আজ নিজের পরিচয় তুলে ধরতে পেরেছেন। আরো দশজন পর্বতারোহীকেও জিততে শিখিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি কাজে বিশ্বাসী। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চাই। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj