কেমন হলো ঈদের নাটক টেলিছবি

শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হাসান আলী : ঈদ শেষ হলেও এখনো আলোচনা-সমালোচনা থামেনি ঈদের নাটক- টেলিছবিকে ঘিরে। টেলিভিশনের পর্দায় প্রচারের পর এখন ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে ঈদের নাটক-টেলিছবি। আর সেগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা। এবারের ঈদকে উপলক্ষ করে প্রায় চার শতাধিক নাটক-টেলিছবি প্রচার হয়েছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিভিন্ন ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে। এর মধ্যে কিছু নাটক-টেলিছবিকে নিয়ে যেমন প্রশংসা তৈরি হয়েছে, আবার কোনো কোনো নাটক-টেলিছবিকে নিয়ে চলছে সমালোচনা। কেউ কেউ গুনতে শুরু করেছেন কোন কোন নাটক-টেলিছবি ইউটিউবে কত ভিউয়ার হলো? আবার কেউ কেউ মনে করছেন ইউটিউবের ভিউয়ারের ওপর নির্ভর করে না কোনটি ভালো নাটক!

এবারের ঈদে আলোচনা তৈরি করেছে শাফায়েত মনসুর রানার রচনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘আমার নাম মানুষ’। অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, জন কবির, অপর্ণা ঘোষ, ফখরুল বাশার মাসুম, মিলি বাশার, জয়রাজ, ফারিহা শামস সেঁওতি, ইরফান সাজ্জাদ, সুদীপ বিশ্বাস ও শাফায়েত মনসুর রানা। এটি প্রচার হয়েছে জিটিভিতে। অন্যদিকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘আয়েশা’ টেলিছবিটিও আলোচিত হচ্ছে। ঈদকে উপলক্ষ করে আট বছর পর টিভি নাটকে ফিরছেন ফারুকী। সঙ্গে তার ‘ভাই-ব্রাদার’ গ্রুপও রয়েছে। ফারুকীর পরিচালনায় ‘আয়েশা’ আলোচনা তৈরি করলেও ভাই-ব্রাদার গ্রুপের অন্য নাটকগুলোর মধ্যে মাহমুদুল ইসলামের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘দ্য অরিজিনাল আর্টিস্ট’ এবং রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘পাতা ঝরার দিন’ ছাড়া অন্য নাটক-টেলিছবিগুলো তেমন আলোচনা তৈরি করতে পারেনি। ভাই-ব্রাদার গ্রুপের নাটক-টেলিছবিগুলো প্রচার হয়েছে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়। এ দিকে গত বছর ঈদে ‘বড় ছেলে’, আর গত রোজার ঈদে ‘বুকের বাঁ পাশে’ দিয়ে আলোচনা তৈরি করেছিলেন নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান। এবারের ঈদে এই নির্মাতার পরিচালনায় এসএ টিভিতে প্রচার হয় ‘শোক হোক শক্তি’। এটি খুব বেশি আলোচনা তৈরি করতে পারেনি।

এবারের ঈদে ২০টি একক নাটক এবং ৫টি ধারাবাহিক নাটক প্রচার করে এটিএন বাংলা। অন্যদিকে আরটিভিতে প্রচার হয় ৭ পর্বের তিনটি ধারাবাহিক, ৭টি এক খণ্ডের নাটক, ৭টি টেলিফিল্ম এবং ৭ দিনব্যাপী মোশাররফ করিম উৎসবে ৭টি একক নাটক। এ ছাড়া লাক্স ও গ্রামীণফোন নিবেদিত আরো ১৪টি নাটক প্রচারিত হয় চ্যানেলটিতে। এনটিভি, চ্যানেল আই, বাংলাভিশন, মাছরাঙা, জিটিভিসহ দেশের প্রায় সব কটি টিভি চ্যানেল গড়ে দুই ডজনেরও বেশি করে নাটক-টেলিছবি প্রচার করেছে। সব মিলিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হয়েছে ৩শর মতো নাটক-টেলিছবি। সেগুলো টিভি পর্দায় প্রচারের পর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলেও দেখার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে টিভি চ্যানেলগুলো। এ ছাড়া শুধুমাত্র ইউটিউবে প্রচারের জন্যই নির্মিত হয়েছে প্রায় ১শর মতো নাটক-টেলিছবি।

এবারের ঈদের নাটক-টেলিছবি প্রসঙ্গে কবি-নাট্যকার শুভাশীস সিনহা বলেন, ইদানীং টিভি নাটকের সবচেয়ে বড় সমস্যা স্ক্রিপ্ট। এত দুর্বল স্ক্রিপ্ট, জঘন্য সংলাপ, পীড়াদায়ক। আমাদের টিভিনাটকের প্রধান দুর্বলতা স্ক্রিপ্ট। টিভি নাটকই যেন সেই জিনিস, যা একজন মুদি দোকানদারও লিখতে পারে। কথায় কথায় ইন্ডিয়ান সিরিয়ালকে গালাগাল করে লাভ নেই, ওরা বাণিজ্যের জন্য জনরুচি আর প্রবৃত্তিকে জরিপ করে কাহিনী বানায়। কিন্তু তার মধ্যেও স্ক্রিপ্ট-সংলাপে একটা ব্যাপার বোঝা যায়, তা হলো ওদের লিটারারি সেন্স। পড়াশোনা, ক্লাসিক সাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ। কিন্তু বাণিজ্যিক ফোবিয়ায় আক্রান্ত বলেই পরে আর তা হয়ে ওঠে না। আমাদের এখানে টেলিভিশনের নাট্যকারকে সাহিত্য বুঝতে হয় না। আইডিয়া বা প্লট পেলেই হলো। প্লট থেকে স্ক্রিপ্ট আর স্ক্রিনপ্লে পর্যন্ত যে জার্নি, তা না বুঝেই তারা নাট্যকার।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj