মায়া

শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হিমু আকরাম

তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, অন্য পুরুষ তোমার গায়ে হাত দিলে কেমন লাগে! সে অনেকক্ষণ চোখ বুঝে থাকল, তারপর বলল, ভালো লাগে।

– কেমন ভালো?

– আমার হাজবেন্ড তো একই মানুষ, পরিচিত বিছানা, একই ঢং, একই গায়ের ঘ্রাণ, একই বিরক্তিকর প্রেম…!

এবার আমি চোখ বন্ধ করলাম। ভাবলাম কিছু সময়। তারপর মেয়েটার চোখের দিকে তাকালাম।

দিঘির জলের মতো সেই টলটলে ডাহুক চোখ দুটো আমাকে বলে দিল, মেয়েটি সত্যের মতো মিথ্যা বলেছে। একই বিছানা, একই পুরুষ, একই রকম ঘামের গন্ধ…!

তবুও প্রাচীন প্রশ্নটা আমার মনের ভেতর ঘুরপাক খায়। যে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আমি নগরের কানাগলিতে ঘুরে বেড়াই ফেরিওয়ালার মতো!

আমি জানতে চাইলাম,

কষ্ট হয় না, অন্য পুরুষের নিচে নিজেকে মেলে ধরতে। নগ্ন হতে!

সে চুপ করে থাকে। অনেকক্ষণ। আমি বলি, তোমার হাজবেন্ডের জন্য একটুও কি কষ্ট হয় না!

মেয়েটা এবার বিছানা থেকে নামে। জানালার পাশে দাঁড়ায়। সেখানে একটা ম্যাগনোলিয়ার ডাল বাতাসে দোলে, একটা রাত পাখি ডাকে, দূরে একটা ট্রেনের হুইসেল বাজে। তারপর সে আমার দিকে তাকায়। হাসে।

সে বলে- মরুভূমিতে পথ ভুল হলে পথ খোঁজে কেবল বোকারা! বুদ্ধিমানরা নতুন পথ করে নেয়। আমি বুদ্ধিমান। একেকটা মানুষ, আমার একেকটা নতুন পথ!

অনেকক্ষণ নীরবতা। মেয়েটা আর আমি। তারপর বাতাসের শব্দ গাড়ির হর্ন, বাদুড়ের ডানার ঝাপটা- সবকিছু অন্ধকারে মিলিয়ে গেলে আমি উঠে দাঁড়াই।

মেয়েটার হাতে মোটা খাম দিয়ে বলি, আসি!

– থাকবেন না?

– আমি যে বোকা!

– চলে যাবেন?

– দেখি মরুভূমির আমার সেই হারানো পথ যদি খুঁজে পাই!

আমি রাস্তায় নামি। পুরো শহর ভেসে যায় সোডিয়ামের আলোয়। একদল ক্ষুধার্ত কুকুর চেঁচায় তার স্বরে। অর্ধেক চাঁদ মেঘের ভেতর থেকে উঁকি দেয়, আবার লুকায়। আমি অচেনা পথ ধরে হাঁটি। আমি বোকা। আমি শুধু নিজের মানুষের গায়ের গন্ধ খুঁজি! যার শরীরজুড়ে লেপ্টে আছে কেবল আমার মায়া!

:: সাউথ ডাকোটা, আমেরিকা

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj