বাপা ও সুন্দরবন রক্ষা কমিটি : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ৩২০ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে ৫ দফা দাবি

মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট ২০১৮

কাগজ প্রতিবেদক : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের আশপাশে স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা। সুন্দরবন রক্ষায় সোচ্চার থাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের কথা না শুনলেও জাতিসংঘের সর্বশেষ শক্তিশালী বিবৃতির প্রতি সরকারের সম্মান দেখানো উচিত বলেও তারা মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়োজিত বিশেষ রেপোরটিয়ারের সুন্দরবন বিষয়ক শক্তিশালী বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই দাবি জানান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন সভাপতিত্ব করেন বাপার সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, ড. ইফতেখারুজ্জামান, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, জতিসংঘের শক্তিশালী বিবৃতির পর আমরা সরকারের কাছে আবারো ৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

দাবিগুলো হচ্ছে- সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ^ ঐতিহ্য কমিটির প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও নির্মাণের সব কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের পাশর্^বর্তী বা অভ্যন্তরের নির্মাণাধীন ৩২০টি ও সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ও স্থাপনা অপসারণ, নির্মাণাধীন প্রকল্প বন্ধ, বরাদ্দ সব প্লট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি কর্তৃক সরকারের কাছে দেয়া ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন, সম্প্রতি খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন ও ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্য কমিটির জুলাই ’১৭ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে বন রক্ষায় সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ, সরকারি প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী ও কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা সম্পাদনের জন্য অরোপিত শর্তাবলি জনসম্মুখে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। সুন্দরবনের ওপর আরোপিত অন্যান্য সব অনিময় অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ, বন বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, কাজের পরিধি, একাগ্রতা, সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

নেতারা বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি একটি অসচ্ছ প্রকল্প। যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ ও সুন্দরবন রক্ষার দাবি জানিয়েছে সরকার তাদের ওপরেই ক্ষেপেছে। দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশিরাও সুন্দরবন রক্ষায় কথা বলছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ জন নক্স তার বিশেষ রেপোরটিয়ারে বলেছেন, সত্যিকার টেকসই উন্নয়ন অর্জনে পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি বিষয়। আর সেই পরিবেশের সংকটগুলো বিবেচনা নিশ্চিতকরণে সরকারকে প্রস্তাবিত শিল্প স্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের মতামত আমলে নিতে হবে।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj