বিলাসী গাড়ি বিএমডাব্লিউ

রবিবার, ২৬ আগস্ট ২০১৮

বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় বিলাসী গাড়ি প্রস্তুতকারকদের একটি হচ্ছে বিএমডাব্লিউ। ১৯১৬ সালে এদের পথচলা শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধ বিমানের জন্য একের পর এক তাক লাগানো ইঞ্জিন নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। গতি ও উচ্চতার রেকর্ড সৃষ্টি করে তারা। তাদের তৈরি দুই পাখার বিমান ৩২ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ে যায় কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ভার্সাই চুক্তি মেনে নিতে হয় জার্মানিকে।

এ চুক্তির ফলে জার্মান কোম্পানীগুলো যুদ্ধ বিমান এবং বিমানের ইঞ্জিন তৈরির অধিকার হারায়।

১৯৩০ সালে জার্মান সামরিক বাহিনী তাদের অস্ত্রসম্ভার সমৃদ্ধ করতে শুরু করে। বিএমডাব্লিউ আবার বিমানের ইঞ্জিন তৈরি করতে শুরু করে। এ সময় সাইডকার যুক্ত মোটর সাইকেল বেশ জনপ্রিয় হয়, জার্মান সামরিক বাহিনী ছিল এসবের বড় ক্রেতা। ১৯৫৯ সালে কম্পানির অর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ায় কম্পানিটি বিক্রি করে দেয়া হবে কিনা সে আলোচনায় বসেন কম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। শেষ পর্যন্ত তারা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং গাড়ির বাজার ধরতে সচেষ্ট হন।

সংক্ষেপে বিএমডাব্লিউ: জার্মান নাম ‘বায়েরেশে মোতুগান ওয়ার্ক’ আর ইংরেজীতে ‘বাভারিয়ান মোটর ওয়ার্কস’। সদরদপ্তর জার্মানীর মিউনিখে। ১৯৬০ সালে নির্মিত সদরদপ্তর ভবনটি তৈরি হয়েছে তাদের চার সিলিন্ডার ইঞ্জিনের আদলে। ২০১২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়। বিলাসবহুল গাড়ি ছাড়াও মোটরসাইকেল এবং বাইসাইকেল তৈরি করে বিএমডাব্লিউ।

২০১২ সালে ১৮,৬১,৮২৬টি গাড়ি এবং ১,২৫,২৮৪ টি মোটরসাইকেল তৈরি করে। ২০১২ সালে এদের কর্মী সংখ্যা ছিল ১,০৫,৮৭৬ জন। আরেকটি দুনিয়া মাতানো ব্র্যান্ড রোলস রয়েসের মালিকানা এখন বিএমডাব্লিউর হাতে। চার দশকের বেশি সময় ধরে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক কার বানাচ্ছে বিএমডাব্লিউ।

কার রেসিং: নব্বইয়ের দশকে এসে কার রেসিংয়ে নজর দেয় বিএমডাব্লিউ। ব্র্যান্ডটি এ পর্যন্ত ২০টি ফর্মুলা ওয়ান জিতেছে। বহু নামী কার রেসার তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন বিএমডাব্লিউ-এর মাধ্যমে। অবশ্য ২০০৯ সালের পর থেকে বিএমডাব্লিউ ফর্মুলা ওয়ান কার রেসিংয়ে আর নেই।

কার্বন ফাইবার: কার্বন ফাইবার যথেষ্ট মজবুত এবং ওজনে স্টিলের অর্ধেক, আর এলুমিনিয়ামের চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ হালকা। এ কারণে মহাকাশযান এবং বিমানে কার্বন ফাইবারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু ব্যয়বহল হওয়ার কারণে গাড়িতে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হত না। ২০১১ সালে প্রথমবারের মত গাড়িতে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করে বিএমডাব্লিউ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি কম্পানীর সাথে কাজ করে কমমূল্যে কার্বন ফাইবার উৎপাদনের পদ্ধতি বের করে। এটি ব্যবহার করেই আইথ্রি এবং আইএইট মডেলের গাড়ি নিয়ে আসে বিএমডাব্লিউ। আইথ্রি হচ্ছে চার আসন বিশিষ্ট ছোট আকারে ইলেকট্রিক কার। দ্রুত বাড়তে থাকা মেগাসিটিগুলোর কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি। আইএইট হচ্ছে উচ্চগতির সুপারকার। পেট্রোল-ইলেকট্রিক হাইব্রিড ইঞ্জিনে চলে এই গাড়ি। বিশেষজ্ঞদের মতে কার্বন ফাইবার গাড়ি শিল্পে পরিবর্তন আনতে চলেছে। হালকা হওয়ার কারণে কারণে কার্বন ফাইবার তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি খরচ করে ফলে কম কার্বন ডাই অক্সাইড নিসৃত হয়।

বিএমডাব্লিউ গাড়ির মূল্য: বাংলাদেশে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানীর ক্ষেত্রে একশভাগ আমদানী শুল্ক দিতে হয়। কাজেই এমনিতেই ব্যয়বহুল বিএমডাব্লিউ গাড়িগুলোর দাম আরও আকাশছোঁয়া।

বাজার থেকে গাড়ি প্রত্যাহার : সম্প্রতি ছয় সিলিন্ডার ইঞ্জিনের বোল্টে ত্রুটি রয়েছে এমন উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিএমডাব্লিউ যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ১,৫৬,০০০টি গাড়ি প্রত্যাহার করেছে। এসব গাড়ির মধ্যে সিরিজ ৫ এবং জেড ফোর সিরিজের স্পোর্টস কারও রয়েছে।

বিএমডাব্লিউ জানিয়েছে তাদের গাড়িগুলোর ছয় সিলিন্ডার ইঞ্জিনের বোল্টগুলো শিথিল হয়ে পড়ার বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj