দে ছুট : দেলোয়ার হোসেন রংপুরী

শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

ছেলেবেলায় কুরবানির ঈদ আমার কাছে একটা বিশেষ আনন্দ বয়ে নিয়ে আসত। আমার কৈশোর কেটেছে গ্রামে। মধ্যবিত্ত পরিবার। সংসারে প্রাচুর্য না থাকলেও খুব একটা অভাব ছিল না। সাধারণত ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে কুরবানির পশু কেনার তোড়জোড় শুরু হতো। পাশে কার বাড়িতে কে কেমন কুরবানির পশু কিনলেন তা দেখে বেড়াতাম। অনেকেই কুরবানির পশু কেনার পরে রঙিন কাগজ বা কাপড়ের মালা, জরির ফিতা ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে নিত। এ ধরনের সাজানো পশু আমার দেখতে খুব ভালো লাগত। কুরবানির পশু কেনার সময় আব্বার সঙ্গে হাটে যাওয়ার বায়না ধরতাম। পশু কেনার পর আমার চাপেই আব্বা সেটা রঙিন কাগজের মালা দিয়ে সাজিয়ে নিতেন।

গ্রামের বাড়িতে বছর ঠিকা কাজের লোক ছিল। এদের একজন নৈমুদ্দি চাচা। একবার কুরবানির গরু কেনার পর নৈমুদ্দি চাচাসহ সন্ধ্যার আগেই হাট থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছি। গরুর দড়ি আমার হাতে দিয়ে নৈমুদ্দি চাচা গরুর পাশাপাশি হাঁটছেন। আমিও তাল মিলিয়ে দ্রুত হাঁটছি। পেছনে আরো কয়েকজন হাটুরে।

লোকজন যেই দেখছেন গরুর দাম কত জিজ্ঞাসা করছেন।

আমি আর নৈমুদ্দি চাচা জবাব দিচ্ছি। পথিমধ্যে আমার এক চাচা আমাদের দেখে দাঁড়িয়ে জানতে চাইলেন গরুর দাম কত? আমরাও আমাদের হাঁটার গতি কমিয়ে জবাব দেয়ার জন্য গরুটার থামানোর চেষ্টা করি। গরুর রশি টেনে ধরি। গরুটা যেন থামতে চাচ্ছে না। ছটফট করছে।

এ সময় চাচা গরুটার গায়ে একটু হাত বুলাতেই আচমকা গরুটা এক হেঁচকা টানে দে ছুট। রশি হাতে আমি ধপাস করে পড়ে যাই রাস্তার ধুলায়। হাঁটু এবং কনুইতে বেশ আঘাত পাই। প্রাণ বাঁচাতে হাতের রশি ছেড়ে দেই।

ঘটনার আকস্মিকতায় নৈমুদ্দি চাচা হতবিহŸল হয়ে পড়েন।

তিনি আমাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে গরু আমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। সে আর এক কাহিনী। যা হোক এরপর অতি কষ্টে অন্য লোকজনের সহায়তায় গরুটিকে আটকানো সম্ভব হয়। এরপর আর কোনোদিন আমি রশি ধরে এভাবে গরু আনার সাহস করিনি।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj