হৃদরোগীর ঈদের খাবার

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

ঈদের দিন প্রায় প্রতিটি পরিবার বিভিন্ন প্রকার খাবার আইটেম তৈরি করে থাকে। হালকা ও ভারি খাবারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান-শাকসবজি, কিসমিস ও বাদাম ইত্যাদির আয়োজন থাকে।

গরুর গোশত, খাসির মাংস, মুরগির মাংস, ইলিশ মাছ ভাজা কিংবা কলিজা ভাজার মতো ভারি খাবার ঈদের দিন বেশি থাকে। কম থাকে হালকা খাবার যেমন- চপ, কাটলেট, সেমাই, জর্দা বা নুডলুস। সকালে নিজ বাসায় অল্প পরিমাণে হালকা খাবার (সেমাই, জর্দা, চা) খেয়ে ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ে বন্ধু-আত্মীয়-পড়শীর বাসায় যেতে পারেন। হৃদরোগীকে খাবার গ্রহণের সময় তেল, চর্বি-মিষ্টির আধিক্য কম এমন খাবার খেতে হবে। খাবার হবে পরিমিত। কোনো বাসায়ই দুপুর কিংবা রাতের খাবার খাওয়া ঠিক হবে না। সব সময় অল্প অল্প খেতে হবে। নিজের খাদ্য শক্তির চাহিদার কথা মাথায় রাখতে হবে। সারাদিনে ২৫০০-৩০০০ ক্যালরি গ্রহণ করা যাবে। মনে রাখার সহজ হিসাব ৯-৪-৪ অর্থাৎ চর্বি, শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাবারের প্রতি গ্রাম যথাক্রমে ৯, ৪ ও ৪ ক্যালরি খাদ্যশক্তি আসে। চিনি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া যাবে না। আমাদের সাধারণ ধারণা আছে- চিনি কোনো ক্ষতি করে না। এই ভুল ধারণা বেশি চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। শরীরে প্রবেশের পর চিনি লিভারে গিয়ে চর্বিতে (৪০%) পরিবর্তিত হয়ে শরীরে যাবে। তাই চিনি কম খেতে হবে আপনার ডায়াবেটিস থাকুক বা না থাকুক।

খাদ্যের পরিমাণ

ঈদের দিনে এক দিনে হঠাৎ বেশি খাবার খাওয়া যাবে না। হজমে সমস্যা হতে পারে। হৃদরোগীর নিজের চাহিদা ও হজম ক্ষমতা হিসাব করে খেতে হবে। একবারে ভুঁড়িভোজন করা যাবে না।

প্রাকৃতিক খাবার

অল্প পরিমাণে ভারি/হালকা খাবারের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা প্রাকৃতিক খাবার খেতে হবে। কম চর্বি শোষণ, ভালো হজম ও শরীর ফিট রাখার জন্য সালাদ, বাদাম, আঙ্গুর ও লেটুস পাতা এসব কিছুটা খেতে হবে। পরিমিত লেবুর রস খাওয়া যাবে।

শেষ কথা

হৃদরোগীর জীবন হতে হবে নিয়ন্ত্রিত। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। এক মাস সিয়ামের পর ঈদুল ফিতরের দিন দৈহিক চাহিদানুযায়ী পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যা সহজ পাচ্য ও কম তেল-চিনিযুক্ত। কাঁচা ভাজা/টালা সব রকম আলগা লবণ ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। পরিমিত, সুস্বাদু ও সহজ পাচ্য এই হোক হৃদরোগীর ঈদের খাবারের চরিত্র।

ডা. লিয়াকত হোসেন তপন

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj