ক্রীড়া উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু পরিবার : শামসুজ্জামান শামস

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮

বাঙালি জাতির মহানায়ক বাংলার বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির শত শত বছরের পরাধীনতার গøানি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। তাই ছাত্র জীবন থেকেই বিদেশি শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রতিবাদী। এই সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না, আরো শত শত বছর বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শিকল পরে মৃত্যুর যন্ত্রণায় দিন কাটাতে হতো। কেবল স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেও তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ এই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জস্থ অজপাড়াগাঁ টুঙ্গিপাড়ায় যেদিন শেখ লুৎফর রহমানের ঘর ও বেগম সাহেরা খাতুনের কোল আলো করে যে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছিল সেদিন কেউ কি জানত যে এই শিশুই বাংলার ভাগ্যাহত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুক্তির দূতরূপেই আবির্ভূত হবেন একদিন।

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী। ক্রীড়া বিশ্বে বাংলাদেশ আজ আপন মহিমায় এগিয়ে চলছে। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, দাবা, কাবাডি, গলফ, ভলিবল, জুডো-কারাতেসহ সব খেলাই বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা সাফল্য অর্জন করছে। ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট পরাশক্তিদের মাটিতে নামিয়ে আসছে অনায়াসে।

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তরুণ বয়সে অসাধারণ ফুটবল খেলতেন। চল্লিশ দশকের গোড়ার দিকে তিনি ঢাকায় মাঠ মাতিয়েছেন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে। দলের মূল একাদশের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার ছিলেন তিনি। স্কুলজীবন থেকেই তিনি খেলার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তার উদ্যোগেই ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে গড়ে উঠেছিল ফুটবল ও ভলিবল দল। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন স্কুল দলের নিয়মিত সদস্য। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অল্প দিনেই নিজেকে স্কুলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে দাঁড় করান। ১৯৪০ সালের দিকে পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি ছিল নেতৃত্ব স্থানীয়। ঢাকার মাঠে ক্লাবটির দাপট ছিল অপ্রতিহত। বঙ্গবন্ধু তখন মাঠে নামতেন ওয়ান্ডারার্সের একজন নিয়মিত ফুটবলার হিসেবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়ে দর্শকদের মন জয় করেন। তিনি হয়ে ওঠেন ওয়ান্ডারার্সের নির্ভরতার প্রতীক। একই সময় শেখ মুজিব ক্লাবটির সংগঠকের ভূমিকাও পালন করেন গুরুত্ব নিয়ে। কলকাতা চলে যাওয়ার পর খেলাধুলায় ছেদ পড়ে তার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে ফুটবলার ছিলেন বলে ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসার কমতি যে ছিল তা কিন্তু নয়। ক্রিকেটের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার তাগিদে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠন করেন- যা বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি নামে পরিচিত। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের অন্তর্ভুক্ত ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এটি বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাধীন ৪৫টি ভিন্ন ভিন্ন খেলাধুলা বিষয়ক সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সংক্ষেপে বাফুফে, বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এটি। বাফুফের যাত্রাও শুরু হয়েছে ১৯৭২ সালে। ক্রীড়াপ্রেমী বলেই সব খেলার প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্বলতা ছিল। ফুটবলের প্রতি জাতির জনকের দুর্বলতা একটু বেশি ছিল। কারণ নিজেও ওয়ান্ডারর্স ক্লাবে খেলেছেন। ওয়ান্ডারার্সের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ মাতালেও ভলিবল ও হকি খেলেছেন তিনি। স্বাধীনতার পর দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর আন্তরিকতার কমতি ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপ্রেরণা আর আন্তরিক সহযোগিতায় স্বাধীন বাংলাদেশে ফুটবল মাঠে গড়ায় মাত্র দুমাসের ব্যবধানে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তারকা ফুটবলারদের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ একাদশ ও রাষ্ট্রপ্রতি একাদশের মধ্যে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের মে মাসে ঢাকায় খেলতে আসে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা দল কলকাতা মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে কলকাতা মোহনবাগান ঢাকা মোহামেডানকে হারালেও পরের ম্যাচে হোঁচট খায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ম্যাচে মোহনবাগান ঢাকা একাদশের মোকাবেলা করে। খেলার আগে ঢাকা একাদশের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছিলেন জাতির জনক। ম্যাচের দিন প্রধান অতিথি হিসেবে মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের মনোবল চাঙ্গা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে সেই দিন দুর্দান্ত এক জয় উপহার দিয়েছিলেন ফুটবলারা। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে খেলতে আসে রাশিয়ার মিন্সক ডায়নামো ক্লাব। ফুটবলপ্রেমী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠত্ব বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে নিয়ে ভিআইপি গ্যালারিতে বসে ঢাকা একাদশ এবং রাশিয়ার মিন্সক ডায়নামো ক্লাবের খেলা উপভোগ করেন। ১৯৭৫ সালে মালয়েশিয়ার মারদেকা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিল ফুটবল দল। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতেই জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় দলের বিদায়ক্ষণে গণভবনে ডেকেছিলেন। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এমনটি সম্ভব নয়। দলের সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ছবিও তুলেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ কামাল

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ কামালকে বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের পথিকৃৎ বলা হয়। তার প্রতিষ্ঠিত আবাহনী ক্রীড়াচক্র আজ দেশ-বিদেশে পরিচিত একটি ক্লাব। ক্লাব ভবন থেকে শুরু করে সব কিছুতেই শেখ কামাল আধুনিকতার নিদর্শন নিয়ে এসেছিলেন। বিশেষ করে ফুটবল খেলায় তিনি শুধু বাংলাদেশ কেন, গোটা উপমহাদেশেই পশ্চিমা স্টাইলে বিপ্লব এনেছিলেন। ১৯৭৩ সালে আবাহনীর জন্য বিদেশি কোচ বিল হার্টকে এনে ফুটবল প্রেমিকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন! তখন ক্লাব তো দূরের কথা, এই উপমহাদেশে জাতীয় দলের কোনো বিদেশি কোচ ছিল না। ১৯৭৪ সালে আবাহনী যখন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘আই এফ এ’ শিল্ড টুর্নামেন্ট খেলতে যায়, তখন আবাহনীর বিদেশি কোচ আর পশ্চিমা বেশভুষা দেখে সেখানকার কর্মকর্তা আর সমর্থকদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল। আজ উপমহাদেশে জাতীয় দল থেকে শুরু করে ক্লাব পর্যায়ে বিদেশি কোচের ছড়াছড়ি। অথচ শেখ কামাল তা করেছিলেন সেই ১৯৭৩ সালে। আজ শেখ কামাল বেঁচে থাকলে খেলাধুলা বিশেষ করে ফুটবলে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হতো বাংলাদেশ।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুকে জীবনসঙ্গী করেন শেখ কামাল। ছোটবেলা থেকেই শেখ কামাল ছিলেন প্রচণ্ড ক্রীড়ানুরাগী। শাহীন স্কুলে পড়ার সময় স্কুল একাদশে নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল খেলতেন। আজাদ বয়েজ ক্লাবের হয়ে শেখ কামাল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে নিয়মিত খেলেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ কামাল শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। বন্ধুদের নিয়ে ধানমন্ডির সাতমসজিদ এলাকায় গড়ে তোলেন ‘আবাহনী ক্রীড়াচক্র’।

সুলতানা কামাল

বাংলাদেশে আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রদূত শেখ কামালের সঙ্গে ৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সুলতানা খুকু শুধু একজন ভালো অ্যাথলেটই ছিলেন না, ছিলেন দক্ষ সংগঠকও। মেয়েরা যেন খেলাধুলায় মন ঢেলে দেয়, সে জন্য রীতিমতো কাউন্সিলিংও করতেন তিনি। ১৯৬৭ সালে মুসলিম গার্লস কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছিলেন সুলতানা খুকু। তার এক বছর আগেই জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের লংজাম্পে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক জিতে তাক লাগিয়ে দেন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান অলিম্পিক গেমসে লংজাম্পে নতুন রেকর্ড গড়ে চ্যাম্পিয়ন হন খুকু। ১৯৭০ সালে অল পাকিস্তান উইমেন্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে লংজাম্পে মেয়েদের মধ্যে সেরা হন তিনি। ১৯৭৩ সালে ১০০ মিটার হার্ডলসেও প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন সদাহাস্য মেয়েটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিক্সে প্রথম নারী ব্লু-খুকু। ১৯৭৩ সালে সুলতানা কামাল খুকু নিখিল ভারতে গ্রামীণ খেলাধুলায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে। যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু সুলতানা কামালকে বলেছিলেন, বাঙালির মান রাখতে পারবি তো? খুকু এক কথায় উত্তর দিয়েছিলেন, পারব। কথা রাখতে পেরেছিলেন তিনি। পুরো ভারত থেকে আসা সেরা মেয়েদের পেছনে ফেলেন তিনি। পরে কোনো এক পুরস্কার বিতরণীতে বঙ্গবন্ধু হাসতে হাসতে খুকুকে বলেছিলেন ‘তুই তো আমার সবচেয়ে প্রিয়।’ খুকু তখনো বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ হননি।

ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী

ক্রিকেট নয় ক্রীড়া বিশ্বে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আপন মহিমায় জায়গা করে নিয়েছে। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর কারণে। পৃথিবী নামক এ গ্রহে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এবং সদস্য ছাড়া দেশের সংখ্যা ২০৯টি। কয়েকটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে গিয়ে হাজির হন। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী তা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। দেশবাসী টেলিভিশনে দেখেছে কখনো তামিম-মুশফিক-সৌম্য-সাব্বিরদের চার-ছক্কায় আবার কখনো মাশরাফি-তাসকিন-রুবেল-সাকিব-রিয়াদে উচ্ছ¡সিত হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী। কখনো অনুপ্রাণিত করতে হাততালি দিয়েছেন। কখনো বিজয়ের মিছিলে যোগ দিয়েছেন জাতীয় গৌরবের লাল-সবুজের পতাকা হাতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাহলে ক্রিকেটের ভক্ত? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এমনটি যারা ভাবছেন তারা ভুলের রাজ্যে বসবাস করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব খেলারই ভক্ত। ফুটবলের টানে অনেকবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ছুটে গেছেন। বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবল এবং ক্রিকেটে সাফল্য লাভ করায় তাদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে ক্রীড়াবিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে ক্রীড়াবিদরা।

ক্রীড়াঙ্গনে শেখ জামাল-শেখ রাসেল

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে শেখ জামাল ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ জামালের স্মৃতিকে জাগরুক রাখার জন্য ২০১০ সালে একঝাঁক তারকা ফুটবলার নিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড। ২০১০-১১ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় করে হলুদ-নীল জার্সিধারীরা। মাঝে দুটি ফেডারেশন কাপ শিরোপা জিতেছে ক্লাবটি।

মৌসুম দুরন্ত ফুটবল খেলে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। ২০১১ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত পোখরা কাপ জিতেই অভিষেকটা রঙিন করে রেখেছে শেখ জামাল। আইএফ শিল্ডে দুরন্ত ফুটবল নৈপুণ্য প্রদর্শন করে কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের মন জয় করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্লাবটি।

শিরোপা জয়ের বাসনা নিয়ে ভুটানে গিয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড। কিংস কাপে প্রতিবেশী ভুটান, ভারত ও নেপালের তিন ক্লাবকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে শেখ জামাল। শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে ভারতের অন্যতম শক্তিধর পুনে এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিকে অ¤øান রাখার জন্য ক্রীড়াঙ্গনে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর হচ্ছে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। এই প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় এক ক্লাব হচ্ছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জয়ী শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ২০১৪ সালে কলম্বো অনুষ্ঠিত এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপের বাছাই পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj