শহর নাকি গ্রাম : সেলফোন ব্যবহার কোথায় বেশি!

রবিবার, ১২ আগস্ট ২০১৮

মোবাইল ফোন সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রযুক্তির এ অনুষঙ্গ ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশে গ্রামের চেয়ে শহরে ৭ শতাংশ বেশি মানুষ সেলফোন ব্যবহার করছেন এবং মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশর হাতে স্মার্টফোন পৌঁছেছে। স¤প্রতি শ্রীলংকাভিত্তিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পলিসি এবং রেগুলেশন থিংক ট্যাংক এলআইআরএনই এশিয়া প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় মোবাইল ফোন ব্যবহারে বৈষম্য বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে শহর অঞ্চলের চেয়ে গ্রামীণ মানুষরা মোবাইল ফোন ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছেন। ভারতে শহর ও গ্রামীণ মানুষের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের পার্থক্য ২২ শতাংশ। ভারতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে পার্থক্য তা স্বল্পোন্নত দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও কেনিয়ার চেয়ে বেশি।

এলআইআরএনই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এশিয়া প্যাসিফিক) অঞ্চলের ডিজিটাল-বৈষম্য নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনিয়ায় নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের পার্থক্য ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এই পার্থক্য যথাক্রমে ৭ ও ৫ শতাংশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিজিটাল সেবা ছড়িয়ে দিতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে শতভাগ টেলি-ডেনসিটি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না জেনে সংশোধিত মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত করা হয়েছে।

এলআইআরএনই এশিয়ার তথ্যমতে, ভারতে নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের যে বিস্তর পার্থক্য, তা এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। মোবাইল ডিভাইস, বিশেষ করে স্মার্টফোন এখন বিভিন্ন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানোয় গ্রামীণ মানুষরাও স্মার্টফোনের মতো মোবাইল ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রবেশের সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহকদের ৫৫ শতাংশ বেসিক ফিচার ফোন ব্যবহার করছে। অর্থাৎ এসব ফোন দিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ নেই। দেশটির টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহকের ১৬ শতাংশ ফিচার ফোন এবং ২৮ শতাংশ স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। জরিপে অংশ নেয়া ১৫-৬৫ বছর বয়সী ৬৫ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছে, তারা জানেন না ইন্টারনেট কী এবং ৮১ শতাংশ দাবি করে, তারা কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করেনি।

ভারত সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশনস বা ডিওটির ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইনের আওতায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ব্রডব্যান্ড সংযোগের গ্রাহক বাড়াতে জোর দেয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালের জুনের হিসাবমতে, দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ ৪৩ কোটি ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে নগর অঞ্চলে ২৯ কোটি ৩৮ লাখ এবং গ্রামীণ অঞ্চলে ১৩ কোটি ৭৩ লাখ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার হচ্ছে।

ভারতভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কান্তার আইএমআরবির তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ভারতের নগর অঞ্চলে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দেশটির গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন ২০ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৬ সালের শেষে ১৮ শতাংশ ছিল। নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলের ইন্টারনেট পেনিট্রেশন প্রবৃদ্ধির হার থেকে স্পষ্ট হয়, ভারতে ডিজিটাল-বৈষম্য ক্রমে বাড়ছে।

সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মহাপরিচালক রাজন এস ম্যাথিউস জানান, থিংক ট্যাংক এলআইআরএনই এশিয়ার প্রতিবেদনে ডিজিটাল-বৈষম্য রোধের চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল সেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের বিষয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও ইনফোকম ভারতজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট সেবার প্রসারে জোর কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, ভারতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পার্থক্য কমে আসবে। সূত্র : ইন্টারনেট

:: ডটনেট ডেস্ক

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj