বালিকা

শনিবার, ১১ আগস্ট ২০১৮

হুমায়রা নাসরীন নীনা

সময়টা ছিল যে এক ঘুঘুডাকা অলস দুপুর,

বালিকার পায়ে ছিল একজোড়া রুপার নূপুর।

বসে এখন সে এপার্টমেন্টের রান্নাঘরের কোণে,

ফেলে আসা গ্রামের ছবি ভাসছিল তার মনে।

এমন দুপুরে সে ছুটে বেড়াতো জলে-জঙ্গলে,

সেই কথা ভেবে তার দুচোখ ভাসছে যে জলে।

দুপুরে খাবার সারতো শুধু শাক, নুন, ভাতে,

কিন্তু মায়ের মমতা ছিল যে তার সঙ্গে।

দরিদ্র কৃষক পিতার সে সাত নম্বর মেয়ে,

কোনো উপায় ছিল না পরের বাড়ি না দিয়ে।

সাতটি কন্যার ভারে ন্যুয়ে পড়া দরিদ্রতা,

শহরে আসে সে ভেবে বাবার কষ্টের কথা।

বালিকার বয়স এগারো, কচি দুর্বল হাত,

করতে পারে না সে তেমন ভারী কোনো কাজ।

সামান্য খাওয়া, বকাঝকা আর লাঞ্ছনা,

এই ছিল যে তার সারাদিনের পাওনা।

কিন্তু একদিন তারও ছিল উচ্ছল দুপুর,

আর পায়ে ছিল এক জোড়া রুপার নূপুর।

আজ রান্নাঘরে বন্দি তার অলস দুপুর,

বাজে না বালিকার সেই রুপার নূপুর।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj