নারী গলফে দক্ষিণ কোরিয়ার দাপট

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই ২০১৮

আমাদের দেশের গণমাধ্যমের আলোচনায় ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা টেনিস সব সময় প্রাধান্য পায়। তবে প্রাধান্য পাওয়া তো দূরের কথা; গলফকে নিয়ে খুব একটা আলোচনাও হয় না বললেই চলে। কিন্তু সারা পৃথিবীতেই জনপ্রিয় এই খেলাটি। পুরুষদের মতো নারীরাও দ্যুতি ছড়াচ্ছেন গলফে। বর্তমানে র‌্যাংকিংয়ের সেরা পাঁচজন নারী গলফার হলেন- ইনবি পার্ক, পার্ক সং হিউন, আরিয়া জাতানোগ্রান, রিও সো ইয়ন এবং লেক্সি থমসন। যেখানে ইনবি পার্ক, পার্ক সাং হিউন ও রিও সো ইয়ন তিনজনই দক্ষিণ কোরিয়ার। যা প্রমাণ করে, নারীদের গলফে দারুণ আধিপত্য দেখাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ান গলফাররা।

ইনবি পার্কের জন্ম ১৯৮৮ সালের ১২ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে। তবে কোরিয়ার হয়ে খেললেও বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী এই সুন্দরী বাস করেন আমেরিকার লাস ভেগাসে। তার বেড়ে উঠাও সেখানে। কলেজে পড়াকালীন থেকেই গলফ খেলার সঙ্গে যুক্ত ইনবি পার্কের পেশাদারি গলফার হিসেবে উত্থান হয় ২০০৬ সালের সিমেট্রা ট্যুরের মধ্য দিয়ে। তবে শুরুর পর মাঝখানে বেশ কয়েক বছর পেশাদারি গলফ থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে এএনএ ইন্সপিরেশন গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আবারো অভ্যুদয় ঘটে ইনবি পার্কের। ওই বছর ওমেন পিজিএ চ্যাম্পিয়নশিপ ও ইউএস ওমেন্স ওপেনের শিরোপাও জিতেছেন এই কোরিয়ান গলফ সুন্দরী। এখন পর্যন্ত মোট ৩১টি বড় গলফ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইনবি পার্ক। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্টে কোরিয়ার হয়ে স্বর্ণ জিতেছেন তিনি। চলতি বছরের ২৩ জুলাই প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে ৭.৬২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন এই সুন্দরী।

সর্বশেষ প্রকাশিত নারী গলফারদের র‌্যাংকিংয়ের তালিকায় দুই নম্বরে রয়েছে পার্ক সং হিউনের নাম। তিনিও একজন দক্ষিণ কোরিয়ান গলফার। পার্ক সং হিউনের জন্ম ১৯৯৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে। তবে ইনবি পার্কের মতো তিনিও এখন বসবাস করছেন আমেরিকায়। বর্তমানে ২৪ বছর বয়সী এ নারী গলফারের পেশাদারি গলফের যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। এখন পর্যন্ত মোট ৪টি বড় আন্তর্জাতিক গলফ টুর্নামেন্টে সেরার মুকুট জিতেছেন তিনি। ২০১৭ সালের ইউএস ওমেন্স ওপেনের শিরোপা জিতেছেন পার্ক সং হিউন। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ওমেন পিজিএ চ্যাম্পিয়ন্সশিপের শিরোপাও জিতেছেন সুন্দরী এই কোরিয়ান গলফার। পার্ক সং হিউন চলতি বছরের সেরা নারী গলফার নির্বাচিত হয়েছেন। ৭.২১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এখন র‌্যাংকিংয়ে স্বদেশি ইনবি পার্কের পরের স্থানে রয়েছেন তিনি।

৭.১৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে নারীদের র‌্যাংকিংয়ের তিন নম্বরে অবস্থান করছেন আরিয়া জাতানোগ্রান। সময়ের অন্যতম সেরা এই গলফারের জন্ম থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরে ১৯৯২ সালের ২২ নভেম্বর। তার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১২ সালে। বর্তমানে ২২ বছর বয়সী এই গলফার এখন পর্যন্ত মোট দুবার ইউরোপিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিতেছেন। আরিয়া জাতানোগ্রান ২০১৬ সালের ওমেন্স ব্রিটিশ ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং ২০১৮ সালে জিতেছেন ইউএস ওমেন্স ওপেনের শিরোপা। থাইল্যান্ডের এই গলফার ২০১৭ সালের শ্রেষ্ঠ নারী গলফারের পুরস্কার জিতেছেন।

তালিকার চতুর্থস্থানেও রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক গলফার। তার নাম রিও সো ইয়ন। রিও সো ইয়নের জন্ম ১৯৯০ সালের ২৯ জুন। পরাশোনা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নসেই বিশ^বিদ্যালয়ে। বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াকালীন পেশাদারি গলফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। কেননা শৈশব থেকেই তার স্বপ্ন ছিল গলফার হওয়া। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মোট ১৮টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছেন রিও সো ইয়ন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১১ সালের ইউএস ওমেন্স ওপেন এবং ২০১৭ সালে এএনএ ইন্সপিরেশন ট্যুরের শিরোপা জয়। তিনি ২০১৭ সালে এলপিজিএ প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছেন। ৭.০২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এখন র‌্যাংকিংয়ের চতুর্থস্থানে অবস্থান করছেন তিনি।

সর্বশেষ প্রকাশিত নারী গলফারদের র‌্যাংকিংয়ের পঞ্চমস্থানে রয়েছেন আমেরিকান গলফ তারকা লেক্সি থমসন। তার রেটিং পয়েন্ট ৬.৫৭। লেক্সি থমসনের জন্ম ১৯৯৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে ২৩ বছর বয়সী এই গলফারের পেশাদারি গলফে আবির্ভাব ঘটে ২০১০ সালে। এখন পর্যন্ত মোট ১২টি বড় গলফ আসরের শিরোপা জিতেছেন লেক্সি থমসন। তবে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৪ সালের এএনএ ইন্সপিরেশন চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়।

নারীদের গলফে বর্তমানে যেন একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার নারী গলফাররা।

সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ের সেরা পাঁচের মধ্যে তিনজনই দক্ষিণ কোরিয়ান। সব মিলিয়ে সেরা দশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার গলফার রয়েছেন মোট পাঁচজন। ইনবি পার্ক, পার্ক সং হিউন ও রিও সো ইয়ন ছাড়া বাকি দুজন হলেন ইন কিয়ং কিম ও চুই হেয় জিন।

:: এস এম সায়েম

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj