সেঞ্চুরিতে এগিয়ে যারা

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই ২০১৮

ক্রিকেটের কথা চিন্তা করলেই যাদের নাম প্রথমেই উঠে আসবে তারা হলেন- শচিন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা, জ্যাক ক্যালিস, ব্রায়ান লারা এবং ক্রিস গেইলসহ প্রভৃতিরা। বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের ভিড়ে হয়তো হারিয়ে যাবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আর আইসিসির সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকা করা হলে তো সেরা পঞ্চাশের ঘরেরও কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ১০০টি সেঞ্চুরি করে শীর্ষে অবস্থান করছেন ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। করেছেন ৭১টি সেঞ্চুরি। আর ৬৩টি সেঞ্চুরি করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের তালিকায় ৭৫তম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। আর তিনিই হলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান। বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করেন মেহরাব হোসেন। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। ২০০০ সালে ১০ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম। ক্রিকেটের ইতিহাসে তারকাদের ভিড়ে টাইগাররা হারিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন তামিম-সাকিবরা। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০টি সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। টাইগার ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২টি সেঞ্চুরি করতে সক্ষম হন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ তালিকায় ক্রমান্বয়ে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার, শাহরিয়ার নাফিস এবং ইমরুল কায়েসরা।

তামিম ইকবাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ক্রিকেটার হলেন তামিম ইকবাল। টাইগার ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনম্যাটে সেঞ্চুরি করা একমাত্র ক্রিকেটারও তিনি। তিন প্রকারের ক্রিকেট সবার আগে ১০০০০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বাঁ-হাতি এই ওপেনার। তবে সাফল্য এখানেই শেষ নয়। টাইগার দলের হয়ে বিশটি সেঞ্চুরি করে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় সবার ওপরেই রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাকিব আল হাসানের চেয়ে ৮টি বেশি সেঞ্চুরি করেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নামেন ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। তার অভিষেক ম্যাচটি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে । জাতীয় দলের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন ২০০৮ সালে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন। পরের বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন ১৫৪ রান। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন। এরপর ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ১১টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার সর্বশেষ সেঞ্চুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দুটি করেন সেঞ্চুরি করেছেন।

আর আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি করেন। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করেন ২০০৯ সালে। তার অষ্টম এবং শেষ টেস্ট সেঞ্চুরি করেন ২০১৬ সালে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ জয়লাভ করে। নিজের এবং বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেন ২০১৬ সালে।

সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশ টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে করেছেন ১২টি সেঞ্চুরি। টেস্টে শত রান করেছেন ৫টি ম্যাচে এবং ওয়ানডেতে ৭টিতে। তবে এখনো টি-টোয়েন্টি শত রান করার সুযোগ হয়নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। বিশ্বের নামি-দামি প্রায় সব দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার প্রথম অভিষেক হয়। পরের বছর কানাডার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন। এটি ছিল ওয়ানডে ম্যাচে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সাতটি ওয়ানডে সেঞ্চুরির তিনটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, নিজল্যান্ডের সঙ্গে দুটি আর একটি করে সেঞ্চুরি করেন কানাডা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে। পাঁচটি টেস্ট সেঞ্চুরির দুটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেন। পাকিস্তান জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি করে শত রান করতে সক্ষম হন।

মুশফিকুর রহিম

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম দলের হয়ে ১০টি সেঞ্চুরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি কারীর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম ক্রিকেটারও এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০০৫ সালে। এর পাঁচ বছর পর ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন। টেস্ট ক্রিকেট এখন পর্যন্ত করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শত রান করার পর কোনো ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে পারেনি। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচেও পাঁচটি সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৯১তম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৯টি সেঞ্চুরি করেন মোহাম্মদ আশরাফুল। টেস্ট ক্রিকেটে ৬টি এবং ওয়ানডেতে করেন ৩টি সেঞ্চুরি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটের সাবেক এই ক্রিকেটার দেশের জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নামেন ২০০১ সালে। ৬ সেপ্টম্বর অভিষেক ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন। সে ম্যাচে তিনি ম্যাচ সেরাও নির্বাচিত হন। ক্রিকেট থেকে এখনো অবসর না নিলেও দলের সঙ্গে নেই তিনি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিন সর্বপ্রকার ক্রিকেট থেকে বিরত থাকতে হয়। তবে ইতোমধ্যেই তার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।

হাবীবুল বাশার

টাইগার দলের সর্বকালের অন্যতম সেরা টেস্ট ক্রিকেটারদের একজন হলেন হাবীবুল বাশার। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে করেন ৭টি সেঞ্চুরি। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ৪টি এবং টেস্টে ৩টি শত রানের ইনিংস খেলেন। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর তার অভিষেক হয়। আর ২০০৮ সালে সর্বপ্রকারের ক্রিকেট থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। হ মুকুল মুর্শেদ

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj