বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের সৈনিক ওরা…

সোমবার, ৩০ জুলাই ২০১৮

অন্যপক্ষ প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সাইকেল চালিয়ে একদল মেয়ে ছুটে চলে এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে। বেড়ানো কিংবা সখের বশে নয়। গোপন সূত্রে পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ওরা ছুটে যায় গ্রামে গ্রামে। শহীদ সবুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা আক্তার, সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইভা আক্তার সুবর্ণা সেই দলের দলনেতা।

ওদের এই যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেই বছর ৩১ অক্টোবর ধলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ জন ছাত্রী নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও যৌন হয়রানি বন্ধে প্রথম ব্রিগেড গঠন করেন। তাদের বাল্যবিয়ের কুফল, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেইসঙ্গে দেয়া হয় ১০টি বাইসাইকেল। শুরু হয় কাজ। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে উপজেলায় ১৮টি ব্রিগেডে ১৮৬ জন ছাত্রী সদস্য হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি ব্রিগেডের সদস্যরা টিম লিডারের নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে উপজেলা ব্রিগেড কমিটিকে জানানো হয়। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৯৬টি বাল্যবিয়ে বন্ধ ও ১৬টি যৌন হয়রানির বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে ব্রিগেডের সদস্যরা। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে ত্রিশাল উপজেলাকে ‘বাল্যবিয়ে মুক্ত’ ঘোষণা করা হয়।

ব্রিগেড টিম লিডার আফরোজা আক্তার এ পর্যন্ত ১১টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি পাঁচ-ছয়টি যৌন হয়রানির বিষয়ে সমাধান করতে পেরেছে। আফরোজা বলেন, প্রথম দিকে সাইকেলে করে মেয়েদের গ্রামে গ্রামে চলাফেরা করা এবং বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি বন্ধে কাজ করার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ততটা ভালোভাবে নেয়নি। পরে আস্তে আস্তে সচেতনতা বেড়েছে। সবাই বিষয়টি বুঝতে পারে এবং প্রত্যেকেই এখন আমাদের সহযোগিতা করে।

অপর ব্রিগেড টিম লিডার ইভা আক্তার সুবর্ণা বলেন, সচেতনতামূলক কাজ করার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে এই কর্মকাণ্ড ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ত্রিশালের বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ব্রিগেড এখন সারা দেশের জন্য রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন উপজেলা বাল্যবিয়ে ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ব্রিগেড কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস।

এই ব্রিগেড গঠনের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে দলীয় ক্যাটাগরিতে ‘জনপ্রশাসন পদক’ পেয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন ও তার দলের চার কর্মকর্তা। চার কর্মকর্তা হলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরশাদ উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার আইসিটি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে সম্মানজনক পদক তুলে দেন।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj